বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাবে’র ব্যানারে জামাতের প্রতিবাদ সভা  » «   ফরাসী পতাকার ৩ টি রং এর মানে কি?  » «   Victor Hugo এর সংক্ষিপ্ত জীবনী  » «   পানির উচ্চতা মাপার কাজে নিয়োজিত জুয়াভ  » «   রাইয়াদ আদ্দীন তিশান এর ১ম জন্মদিন উদযাপন  » «   দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল চলছে  » «   শাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   আজ বিশ্ব মা দিবস  » «   নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৬  » «   সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান রওশনের  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন আজ  » «   নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?  » «   প্রচারণা শেষ : সিলেটের তিন উপজেলায় ভোটের লড়াই কাল  » «   জামায়াত হরতাল ডাকায় পিছিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা  » «   নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সিলেটে আনন্দ মিছিল  » «  

কমলগঞ্জের মুন্সীবাজারের শতবর্ষী বটগাছ কর্তন

unnamed-714নিউজ ডেস্ক :: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজারে রাস্তার পাশে থাকা প্রাচীনতম মহিরুহি বটগাছটি গৃহায়নের জন্য কেটে ফেলা হচ্ছে। একের দায় অন্যের উপর চাপিয়ে দ্রুত সময়ে প্রাচীন এই বটগাছটি কেটে নেয়া হচ্ছে। বনবিভাগের কোনরকম অনুমতি ছাড়াই গতকাল সোমবার দুপুরে মালিকানা দেখিয়ে এই বটগাছটি কেটে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সীবাজারে রাস্তার পাশে গড়ে উঠা বটগাছটি প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠে ডালপালা বিস্তার করে। এ গাছের আয়ু শত বছরেরও বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার উন্নয়নের নামে বটগাছের মালিকানা একে অন্যের উপর দায় চাপিয়ে ব্যবসায়ীরা গাছটি কেটে ফেলছেন। হিমেল চৌধুরী নামের এক ব্যবসায়ী মালিকানা দাবি করে শ্রমিক লাগিয়ে গাছটি কেটে নিচ্ছেন। তবে বনবিভাগ ও ইউএনও প্রাচীনতম বটগাছ কেটে ফেলার কোন অনুমতি প্রদান করেননি।
মৌলভীবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক নূরুল মোহাইমীন মিল্টন বলেন, এই গাছের পাতা, ফল ও বিজ পশুপাখি খাদ্য হিসাবে প্রয়োজন মেটায়। কাঠ ও জ্বালানী হিসাবে ব্যবহৃত হয়। অব্যাহতভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করে। এই গাছের গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে বছরের পর বছর বেঁচে থাকে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই গাছের গুরুত্ব মোটেও উপেক্ষা করার মতো নয়। ছায়া প্রদানকারী উদ্ভিদ বলে এর নিচে ক্লান্ত পথিকও বিশ্রাম নেয়। তাছাড়া বিলুপ্তপ্রায় শকুন এসব প্রাচীনতম গাছে আশ্রয় নেয়। কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগী মহল এসব গাছ কেটে বিলীন করছে। এই গাছগুলো বিলীন হয়ে যাওয়ায় প্রকৃতি ও পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্যপ্রাণী বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, পাখির খাবার হিসাবে বটগাছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি আশ্রয় নেয়। বনের মধ্যে বট গাছ না থাকলেও গ্রামাঞ্চল ও রাস্তার ধারে প্রাচীনতম অনেক বটগাছ রয়েছে। তবে প্রকৃতি রক্ষায় এ গাছগুলোকে টিকিয়ে রাখা খুবই প্রয়োজন বলে তিনি দাবি করেন।
প্রাচীনতম বটগাছটি কেটে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মুন্সীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সফিকুর রহমান বলেন, এই গাছের মালিক হিমেল চৌধুরী গাছটি কেটে নিচ্ছেন। হিমেল চৌধুরী বলেন, বাজারের মধ্যে বেড়ে উঠা গাছটি তার মালিকানাধীন ভূমিতে রয়েছে এবং গাছটি কিছু সমস্যার সৃষ্টি করায় তিনি কেটে ফেলছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, গাছ কাটার অনুমতি দেয়ার দায়িত্ব বনবিভাগের। তাছাড়া সেখানে সরকারি ভূমি না থাকায় তিনি কোন পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ ব্যাপারে কমলগঞ্জের রাজকান্দি বনরেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মালেকুজ্জামান বলেন, তিনি বনের মধ্যে রয়েছেন। বটগাছ কাটার বিষয়ে তাদের কোন অনুমতি দেয়া হয়নি। লোক পাঠিয়ে খতিয়ে দেখছেন।
সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বাজারের মধ্যে রাস্তার পাশের বটগাছটির মালিকানা সড়ক অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হবে। তারা প্রথমে পদক্ষেপ নিলে পরে বনবিভাগ ভূমিকা রাখবে।

সর্বশেষ সংবাদ