শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাবে’র ব্যানারে জামাতের প্রতিবাদ সভা  » «   ফরাসী পতাকার ৩ টি রং এর মানে কি?  » «   Victor Hugo এর সংক্ষিপ্ত জীবনী  » «   পানির উচ্চতা মাপার কাজে নিয়োজিত জুয়াভ  » «   রাইয়াদ আদ্দীন তিশান এর ১ম জন্মদিন উদযাপন  » «   দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল চলছে  » «   শাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   আজ বিশ্ব মা দিবস  » «   নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৬  » «   সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান রওশনের  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন আজ  » «   নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?  » «   প্রচারণা শেষ : সিলেটের তিন উপজেলায় ভোটের লড়াই কাল  » «   জামায়াত হরতাল ডাকায় পিছিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা  » «   নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সিলেটে আনন্দ মিছিল  » «  

ঘোড়া-কূটনীতিতে তেজিয়ান ভারত ও বাংলাদেশের সেনা!

8. ghuraরকমারি ডেস্ক::
ভারত ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে এবার সেতুবন্ধনের কাজ করবে স্ট্রং-ব্রিডিং আর উঁচু জাতের খানদানি ঘোড়ারা– যারা বংশবৃদ্ধিতে ওস্তাদ। বছরকয়েক আগে বাংলাদেশকে ভারতের উপহার দেওয়া ছটি ঘোড়ার সাফল্যে ভারতীয় সেনাপ্রধান দলবীর সিং সুহাগ এতটাই উৎসাহিত, যে বাংলাদেশ সফর থেকে দেশে ফিরেই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, বাংলাদেশকে আরও ঘোড়া পাঠানোর জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে!

এই ঘোড়া-কাহিনীর সূত্রপাত প্রায় সাড়ে সাত বছর আগে। বাংলাদেশে তখন সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসন, সেনাপ্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদের হাতেই কার্যত দেশের রাশ। এহেন প্রবল পরাক্রমশালী জেনারেল মঈন যখন ২০০৮-এর ফেব্রুয়ারিতে ভারত সফরে আসেন, তখন ভারত তার হাতে উপহার হিসেবে তুলে দেয় ছটি উন্নত জাতের ঘোড়া দুটি স্ট্যালিয়ন (ঘোটক) আর চারটে মেয়ার (ঘোটকী)। ভালো জাতের ঘোড়ার কদর পৃথিবীর প্রায় সব সেনাবাহিনীতেই। ফলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যাতে একটি দুর্ধর্ষ ঘোড়সওয়ার বাহিনী গড়ে তোলা যায়, সেই জন্য স্ট্রং-ব্রিডিং জার্ম প্লাজম তৈরি করাই ছিল সেই উপহারের লক্ষ্য!

তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন জেনারেল দীপক কাপুর। দিল্লিতে তার উপহার দেওয়া সেই ছটি ঘোড়া কীভাবে এয়ারকন্ডিশন্ড ট্রাকে চাপিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে এনে নানা প্রোটোকল মেনে বাংলাদেশ সেনার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, সে আর এক কাহিনী। তখন বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে জেনারেল মঈনের এই ঘোড়া উপহার পাওয়া নিয়ে রঙ্গরসিকতাও কম হয়নি এককালের বিখ্যাত ব্যান্ড ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র আদলে সেগুলোকে ‘মঈনের ঘোড়াগুলি’ নামকরণ করতেও ছাড়েননি কেউ কেউ!

সেই ঘটনার এতদিন বাদে সেই উপহার কিন্তু বাংলাদেশ সেনার জন্য একটা দারুণ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার পরিসর অনেক বেড়েছে। ২০০৯ সাল থেকে দুই বাহিনীর মধ্যে সরাসরি ‘আর্মি টু আর্মি স্টাফ টক’ও শুরু হয়ে গেছে। যেটা ভারতের সঙ্গে খুব কম দেশেরই আছে। এ ছাড়া ভারতের সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সেনাদের ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ বা সামর্থ্য বৃদ্ধিতেও নানাভাবে সাহায্য করার অঙ্গীকার করেছে– যা এই দুই সেনাবাহিনীকে অনেক কাছাকাছি এনে দিয়েছে।

ঠিক এই পটভূমিতেই এ সপ্তাহের গোড়ায় বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের ঠিক পর পরই আয়োজিত হয় এই সফর। দুদিনের এই সফরে এসে তিনি শুধু বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভুঁইঞা বা ভাবী সেনাধ্যক্ষ লে. জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিক হকের সঙ্গেই বৈঠক করেননি, চট্ট্রগ্রামে গিয়ে বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির স্নাতকদের পাসিং-আউট প্যারেডও পরিদর্শন করেছেন।

তবে বাংলা ট্রিবিউন জানতে পেরেছে, সফরের রুটিন কর্মসূচির বাইরেও জেনারেল সুহাগ নিজে থেকেই জানতে চেয়েছিলেন, সাড়ে সাত বছর আগে ভারতের উপহার দেওয়া সেই ঘোড়াগুলি বাংলাদেশের কতটা কাজে লেগেছে। উত্তরটা দারুণ ইতিবাচক শুনে তিনি খুশি হয়েছেন, এবং তখনই ভারতীয় সেনাপ্রধান স্থির করে ফেলেছেন বাংলাদেশকে ভারত আরও ভাল জাতের ঘোড়া উপহার দেওয়ার প্রস্তাব পাঠাবে।

আসলে বিশ্ব কূটনীতিতে ঘোড়া বা এই জাতীয় অন্য প্রাণী উপহার দেওয়ার রেওয়াজ আছে অনেক দেশেই। যদিও দুই সেনাবাহিনীর মধ্যে এমন ‘ব্রিড’ বা ‘জিন পুল’ উপহারের ঘটনা বিরলই বলা চলে। গত মাসে যখন নরেন্দ্র মোদি মঙ্গোলিয়া সফরে গিয়েছিলেন, সে দেশের সরকার তাকে উপহার দিয়েছিল একটি ঘোড়া। ‘কন্থক’ নামে সেই ঘোড়াটিকে অবশ্য নানা কারণে ভারতে উড়িয়ে আনা যায়নি, আপাতত রাখা হয়েছে মঙ্গোলিয়ার ভারতীয় দূতাবাসেই। ভারত-বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অবশ্য তেমন কোনও সমস্যা নেই, ঘোড়াগুলো অনায়াসেই স্থল-সীমান্ত পেরিয়ে এক দেশে থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।

ভারতে এই উঁচু জাতের ঘোড়াগুলো প্রজনন করা হয় মূলত দুটি জায়গায়– কর্নাটকের হিসার আর উত্তরপ্রদেশের বাবুগড়ে। এই দুটো জায়গাতেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর রিমাউন্ট ভেটেরিনারি কোরের ‘ইকুইন ব্রিডিং স্টাডস’ আছে যেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন প্রজাতির ঘোড়ার মধ্যে প্রজনন করিয়ে দারুণ সব ‘স্টক’ তৈরি করেন, খানদানি ও বনেদি ঘোড়ারা তৈরি করে আরও তেজিয়ান, আরও বেগবান সব সন্তান-সন্ততি! বছরকয়েক আগে বাংলাদেশে যাওয়া তথাকথিত ‘মঈনের ঘোড়াগুলি’ও ছিল এই হিসার আর বাবুগড়েরই প্রোডাক্ট।

তো এখন জেনারেল দলবীর সিং সুহাগ বাংলাদেশ সফর থেকে ফিরেই রিমাউন্ট ভেটেরিনারি কোরকে নির্দেশ দিয়েছেন– বাংলাদেশের জন্য কী ধরনের ঘোড়া সবচেয়ে কার্যকরী হবে, সেটা খতিয়ে দেখে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে। আপাতত স্থির হয়েছে, হিসার ও বাবুগড় দুই জায়গাতেই চলবে সেই ব্রিডিংয়ের কাজ। তারপর পরবর্তীতে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান যখন ভারত সফরে আসবেন তার হাতে তুলে দেওয়া হবে দ্বিতীয় দফার সেই ঘোড়া-উপহার!

ফলে ঘোড়া-কূটনীতিতে সওয়ার হয়েই এখন একসঙ্গে এগোনোর স্বপ্ন দেখছে ভারত ও বাংলাদেশের সেনা!

সর্বশেষ সংবাদ