শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাবে’র ব্যানারে জামাতের প্রতিবাদ সভা  » «   ফরাসী পতাকার ৩ টি রং এর মানে কি?  » «   Victor Hugo এর সংক্ষিপ্ত জীবনী  » «   পানির উচ্চতা মাপার কাজে নিয়োজিত জুয়াভ  » «   রাইয়াদ আদ্দীন তিশান এর ১ম জন্মদিন উদযাপন  » «   দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল চলছে  » «   শাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   আজ বিশ্ব মা দিবস  » «   নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৬  » «   সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান রওশনের  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন আজ  » «   নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?  » «   প্রচারণা শেষ : সিলেটের তিন উপজেলায় ভোটের লড়াই কাল  » «   জামায়াত হরতাল ডাকায় পিছিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা  » «   নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সিলেটে আনন্দ মিছিল  » «  

শীত আসছে চুপি চুপি

2নিউজ ডেস্ক :: গলদঘর্ম আপনি যখন কাঠফাটা রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে, এমন সময় চোখের পলকে চলে গেলেন শীতল কোনো ঘরের ঠিক মাঝখানে। তীব্র গরম ছাপিয়ে এমন পরশ নিশ্চয় আপনার মন ভরিয়ে দেবে? এ তো গেল শুধু আপনার কথা, কিন্তু শহর জুড়ে মানুষের প্রাণে যদি সেই শীতল পরশ বয়ে যায় তাহলে ইপ্সিত হাসি ফুটে উঠবে সবার ঠোঁটের কোণেই। হ্যা, সেই হাসির ব্যবস্থা করতেই হয়তো প্রতি বছর শীতের আগমন ঘটে।

এবারও কিন্তু চুপি চুপি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে চাদর মোড়া শীতের বুড়ি। তেমনটি করে এখনো টের না পেলেও ভোর বেলাটা কিন্তু বড্ড আলসেমিতে ভর করে। আদুরে কাঁথা কখন যে গায়ে জড়িয়ে নেন তা টেরই পান না। সকালে উঠে যখন কাঁথা গায়ে দেখেন তখন হয়তো ভেবেই বসেন ফ্যানের স্পিডটা হয়তো কেউ বাড়িয়ে দিয়ে গেছে। আসলে তা নয়- একটু একটু করে লোকালয়ে শুরু হচ্ছে শীতের আধিপত্য। তাছাড়া দিনপঞ্জিও শীতের আগমনের কথায় বলছে।

যারা একটু বেশি ঘরকুণো আর সৌখিন, তারা ঘর থেকে বের হয় সাধারণত বেলা নয়টা বা দশটার দিকে আর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হওয়ার আগেই আবার ঘরে ফেরে। তাই তাদের কাছে ধরা না দিলেও ভোরের পাখি আর দুরন্ত ছেলেটা ঠিকই টের পাচ্ছে মাথার ওপর কুয়াশা জমে যাওয়ার অনুভূতি। সূর্য ওঠার আগ মুহূর্তে আর ঠিক সন্ধ্যাটা এখন কিন্তু কুয়াশার দখলেই। তাইতো সকাল বেলায়-

সোনা নয় রুপা নয় জ্বলে ঝিকি মিকি,

বিন্দু বিন্দু শিশির গুলো চেয়ে চেয়ে দেখি।

সাদাকাল নীল দিয়ে আকাশ কেমন সাজে,

আমার মনে গহীন বনে সুরের কঙ্কন বাজে।

শহুরে গলির মুখে, মোড়ের ধারে, স্কুল কলেজের সামনে বা কোনো দর্শনীয় স্থানে পিঠা মামারা ভ্যান, ছোট চৌকি খাটের ওপর বা মাটিতে বসেই তৈরি করছেন ভাপ ওড়া ভাপা পিঠা। সাদা সেসব পিঠার বুকে ফুটে ওঠা লাল রঙের উঁকি যেন খেজুর গুড়ের হাসির ঝিলিক। তাতে দ্যোত্বনা সৃষ্টি করছে চিকোন আঁশে কোরানো নারিকেল। নিজেকে হয়তো দুয়েকবার থামিয়ে দিয়ে বলছেন, ‘মামা একটা গরম পিঠা’। কয়েক পদের ভর্তার সঙ্গে কখনো খাওয়া চলছে চিতই পিঠা। এরই মধ্যে গ্রামে শুরু হয়েছে গাছিদের খেজুরের রস আহরণ। তৈরি হচ্ছে মনভরানো গন্ধের গুড় পাটালি। এখনই অনেকে নতুন গুড়ে তৈরি করছেন বাহারি পিঠা। বাড়ির বাচ্চাদের চলছে স্কুল ফাইনাল দিয়ে একটু অবসরে যাওয়ার ব্যবস্থা। কয়েকদিন পরেই তারাও মেতে উঠবে শীতের খাবার দাবারে। তখন মা চাচিদের হাতে পিঠা বানানোর ধুম পড়ে যাবে দারুণভাবে। বাচ্চারাও চুলার পিঠে গোল হয়ে বসে উপভোগ করবে সেসব পিঠার স্বাদ। আর মনে খেলে যাবে-

শীতের দিনে খাওয়ার মজা

পিঠেপুলির ধুম

লেখাপড়া শিকায় তুলে

দিচ্ছি আমি ঘুম।

সবাই মিলে নতুন পোশাক কেনার অজুহাত হতে পারে যেকোনো উৎসব। কিন্তু শীত এমন এক উৎসবের নাম যেখানে পুরো মৌসুম জুড়ে চলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কেনাকাটার ধুম। তাইতো সবার মাঝে এক নির্মল আনন্দ খেলে যায়। এই ঋতুতে প্রয়োজনের অধিক রঙ বেরঙের পোশাক কেনা, তা পরা বা বন্ধু-বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীদের মাঝে প্রদর্শণও চলে কারো কারো। ক্লান্তিহীন চলাফেরা, তাজা সব খাবার খাওয়া আর আড্ডাবাজিতে সময় পার। এতো সব আয়োজনের শুরুর সময়টা চলছে এখন।

সকালে ঘুম ভেঙে বুঝি শিউলির গন্ধ নাকে আসেনি? কামিনী তো যামিনী ভরে গন্ধ বিলিয়ে গেছে আপনার জানালা পাশে। মাঠের পর মাঠ ভরে উঠছে হলুদ সরিষা ফুলে। ক্ষেত ভর্তি সেসব ফুলের ওপর রোদের আলো ঝিলিক দেয়। উত্তরের দিক থেকে ভেসে আসা হাওয়াই দোল খাওয়া ফুলের লুটোপুটি- এ যেন এক অপার সৌন্দর্যের অপর এক নাম। গ্রামের মেয়েরা এর খুব কাছে থাকায় পুরোপুরি কদর না বুঝলেও শহুরে অনেক ললনায় এর বেশ কদর দেখান। নিজেকে কিছুটা সময়ের জন্য গ্রাম্য কন্যা সাজাতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন। আটপৌরে শাড়ি, ঘটিহাতার ব্লাউজ, হাতভর্তি রেশমী চুড়ি, পায়ে আলতা, কোমরে বিছা এককথায় বাংলার আদি সৌন্দর্যে সুহাসিনী কন্যা। তার উচ্ছ্বল ছুটে চলা হলুদ সরিষা ক্ষেতের আইল ঘেঁষে। কখনো বা ক্ষেতের মাঝখানে। অনেক সময় ছেলেরাও বাদ যান এই উচ্ছ্বলতা থেকে। মাথায় গামছা বেধে, পরনে লুঙ্গি আর গায়ে গেঞ্জি বা ফতুয়া দিয়ে পুরদস্তুর কৃষক। ফ্রেম বন্দী করে আনেন উচ্ছ্বলতার সেই মুহূর্তগুলো।

শহরজীবনে এরই মধ্যে শীতের ইতিবাচক প্রভাব শুরু হয়েছে। খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে চলাফেরার সবখানে একটু একটু করে স্বস্তি বাড়ছে। সারাবছরের তুলনায় এখন বাজারে আসছে তরতাজা সবজি, কলকারখানার ধোঁয়াই উত্তপ্ত শহর শীতল হওয়ার পথে, গুমোট হাওয়াকে তাড়িয়ে কিছুটা নির্মল বাতাস বইছে শহরের এপাশ থেকে ওপাশে।

দোকানগুলোও রঙিন হয়ে উঠেছে রঙিন শীতের পোশাকে। আবহাওয়ার সঙ্গে জোট বেধে মানুষেরও চলছে এক দারুণ শীত আয়োজন।

সর্বশেষ সংবাদ