বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাবে’র ব্যানারে জামাতের প্রতিবাদ সভা  » «   ফরাসী পতাকার ৩ টি রং এর মানে কি?  » «   Victor Hugo এর সংক্ষিপ্ত জীবনী  » «   পানির উচ্চতা মাপার কাজে নিয়োজিত জুয়াভ  » «   রাইয়াদ আদ্দীন তিশান এর ১ম জন্মদিন উদযাপন  » «   দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল চলছে  » «   শাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   আজ বিশ্ব মা দিবস  » «   নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৬  » «   সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান রওশনের  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন আজ  » «   নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?  » «   প্রচারণা শেষ : সিলেটের তিন উপজেলায় ভোটের লড়াই কাল  » «   জামায়াত হরতাল ডাকায় পিছিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা  » «   নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সিলেটে আনন্দ মিছিল  » «  

সিলেটে রাজনের পর এবার রাজশাহীতে ২ কিশোরকে নির্যাতনের পর ভিডিও ধারণ!

pn_Raনিউজ ডেস্ক :: শিশু নির্যাতন যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। গেল বছরের কয়েকটি মর্মস্পর্শী ঘটনা সবাইকে নাড়া দিয়ে গেলেও থেমে নেই নির্যাতনের চিত্র। এবার রাজশাহীর পবায় মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে দুই কিশোরকে পেটানো ও সেই নির্যাতনের দৃশ্য ভিডিও করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন জাহিদ হাসান (১৫) ও ইমন আলী (১৩)। চৌবাড়িয়া এলাকার ইমরানের ছেলে জাহিদ ও বাগসারা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। আহতাবস্থায় তাকে পবার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আর ইমনের বাবা মাসুদ রানা। তবে তার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। তার অভিভাবক দাদা মকবুল।আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে ইমন।
১২ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঘটে। এই ঘটনাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে নির্যাতনকারীরা। কিন্তু রাগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় জনগণ। এদিকে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে জাহিদ হাসানের বাবা ইমরান বাদী হয়ে শনিবার সন্ধ্যায় পবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে ফজলুর বারির ছেলে রাকিবের একটি মোবাইল চুরি হয়। ওই চুরির ঘটনায় এলাকার ইমন নামের ১২-১৩ বছরের এক শিশুকে ধরে নিয়ে ফজলুর বারির পরিবারের লোকজন। এরপর তারা ইমনকে মারধর করে। ইমন তখন ওই মোবাইল চুরিতে জাহিদও জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেয়। এরপর ফজলু তার বাড়ির একটি কক্ষে আটকে রেখে দুই শিশুকে ধরে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন। ঘরের মধ্যে বিছানায় ফেলে হাত রশি দিয়ে বেঁধে জাহিদকে নির্যাতন করা হয়। আর ইমনকে বসিয়ে রেখে মারা হয়। রাত ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে তাদের ওপর চলে বর্বর নির্যাতন।
সঙ্গে ছিলেন পলাশ, নাসির উদ্দিন, জামাল, রাজ্জাক, অনিক ও তুহিনসহ কমপক্ষে ১০/১২ জন। তাদের মধ্যে একজন মোবাইল ফোনে ওই নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করেন। তবে তিনি দুই শিশুকে মারপিট করেননি। পরে দুই শিশু মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার না করায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর আতঙ্কে ইমন বাড়ি ছেড়ে রাতেই পালিয়ে যায়। আর জাহিদকে তার পরিবারের লোকজন পবা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করেন।
২০১৬ সালের বছরের শুরুর সাত দিনেই শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনার পরিসংখ্যানে এরই মধ্যে যোগ হয়েছে চট্টগ্রামে ১১ বছরের আজিমকে জবাই করে হত্যা, খুলনায় প্রতিবন্ধী মেয়েকে হত্যার পর পিতার আত্মহত্যা ও গাজীপুরের ১২ বছরের শিশু শ্রমিক মোজাম্মেলকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করে তার পরিবার।
২০১৫ সালের ৮ জুলাই সিলেটে ১৩ বছরের শিশু সামিউল আলম রাজনকে চুরির অপবাদে নির্যাতন করে হত্যা এবং ৩রা আগস্ট খুলনায় এক গ্যারেজে ১৪ বছরের শিশু রাকিবকে নির্যাতন করে হত্যায় আলোড়ন সৃষ্টি হয় পুরো দেশে। এছাড়া বছরজুড়ে পারিবারিক কলহ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে শিশুদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১৫৬টি, নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ৫৫জনকে, রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের, আত্মহত্যা করেছে ১১জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১০জনকে এছাড়া ১৯ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু ও অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে ১১ জন।

সর্বশেষ সংবাদ