শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্স বাংলা প্রেস ক্লাবে’র ব্যানারে জামাতের প্রতিবাদ সভা  » «   ফরাসী পতাকার ৩ টি রং এর মানে কি?  » «   Victor Hugo এর সংক্ষিপ্ত জীবনী  » «   পানির উচ্চতা মাপার কাজে নিয়োজিত জুয়াভ  » «   রাইয়াদ আদ্দীন তিশান এর ১ম জন্মদিন উদযাপন  » «   দেশব্যাপী জামায়াতের হরতাল চলছে  » «   শাবি ছাত্রের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার  » «   আজ বিশ্ব মা দিবস  » «   নির্বাচনী সহিংসতায় নিহত ৬  » «   সাংবাদিকদের জন্য নবম ওয়েজ বোর্ড গঠনের আহ্বান রওশনের  » «   সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন আজ  » «   নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?  » «   প্রচারণা শেষ : সিলেটের তিন উপজেলায় ভোটের লড়াই কাল  » «   জামায়াত হরতাল ডাকায় পিছিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষা  » «   নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল রাখায় সিলেটে আনন্দ মিছিল  » «  

নির্ঘুম রাতে ডাকাত আতঙ্ক এ ব্যর্থতা কার ?

c660177e2a66ab54d3b3c9ec12d83d4d-20অহী আলম রেজা ::
নির্ঘুম রাতে ভয়ার্ত মানুষের চোখ। উদ্বেগ-উৎকন্ঠা সবার মাঝে। পাড়ামহল্লায় লাঠি হাতে বৃদ্ধ-কিশোর-যুবা। মধ্যরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে শিশুরাও। ডাকাত পাহারা দিতে রাস্তায় নামেন নগরবাসী।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের আস্থা শেষ তলানিতে। নাগরিকের জীবনে স্বস্তি নেই। তাই মানুষ বলছে, জান-মালের হেফাজত নিজেদেরই করতে হবে। তা না হলে পুলিশের কাছে তথ্য থাকলেও কীভাবে শহরে ডাকাত ঢুকে।
জানা গেছে, শাহপরান থানা পুলিশের কাছে খবর ছিল, ছয় সদস্যের এক দল ডাকাত ঢাকা থেকে সিলেট এসেছে ডাকাতি করতে। বুধবার রাত শাহপরান থানা এলাকায় এই ডাকাতরা হানা দিতে পারে এমন খবরও ছিল তাদের কাছে।
এই খবর শাহপরান থানার পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়ে দেন নিজেদের স্থানীয় সোর্স ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে ও ডাকাতের সন্ধান পেলে থানায় জানাতেও অনুরোধ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
এর পর একজনের কাছ থেকে অন্যজন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ে মানুষ। শাহপরান এলাকার প্রায় সকল মসজিদ থেকে ঘোষণা দেওয়া হতে থাকে ‘পাশের এলাকায় ডাকাত পড়েছে, নিজেরা সতর্ক হোন, ডাকাত প্রতিরোধ করুন’। এমন ঘোষণায় মধ্যরাতে দলে দলে লোকজন নেমে আসেন রাস্তায়। লাঠি হাতে খুঁজতে থাকেন ডাকাত। পুরো নগরজুড়ে শুরু হয় আতঙ্ক।
একপর্যায়ে নগরীর শিবগঞ্জ, টিলাগড়, উত্তর বালুচর, খাদিমপাড়া, বালুচর, মিরাবাজার, দক্ষিণ সুরমার আলমপুর, কুশিঘাট, মিরাপড়া, চৌকিদেখিসহ বিভিন্ন এলাকায় ডাকাত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসব এলাকাগুলোতেও ডাকাত হামলা চালাতে পারে- এমন সংবাদে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করে ডাকাত প্রতিরোধে সজাগ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিদিন শহর ও শহরের বাইরে চুরি-ছিনতাই হচ্ছে, ডাকাতি হচ্ছে, খুন হচ্ছে। কোনোভাবেই প্রতিরোধ করতে পারছে না পুলিশ। প্রতিকার পাচ্ছে না মানুষ।
এতোদিন বিচ্ছিন্নভাবে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায় ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও এবার সিলেটের ভেতর ডাকাত দলের হানা ভাবিয়ে তুলছে নগরবাসীকে।
এ আতঙ্কে গত রাতেও ঘুমুতে পারেনি মানুষ। শান্তিতে যে আগামী রাতে ঘুমুতে পারবে এর নিশ্চয়তা কে দেবে ? উত্তর জানা নেই।
বিষয়টি গুজব হতে পারত। তবে, বুধবার শেষ রাতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় নগরীর চৌকিদেখি এলাকার লাক্কাতুরা চা-বাগান থেকে তিন ডাকাতকে আটক করে পুলিশ। ডাকাত আটকের ঘটনাটি আতঙ্কিত করছে নগরবাসীকে।
এইসব অপরাধীরা কোনো গায়েবি মানুষ নয়। ঢাকা থেকে আসুক আর সিলেটেরই হোক, তাদের ধরতে না পারার ব্যর্থতা শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর-জনগণের নয়।
এ ব্যাপারে শাহপারান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজালাল মুন্সি জানান, পুরো শাহপরান থানায় ডাকাত দলের সদস্যরা হানা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে ছিল। স্থানীয় জনতা ও পুলিশের প্রতিরোধে ডাকাতেরা পালিয়েছে। তবে ডাকাতদের গ্রেফতার করতে শাহপরান থানার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) রহমতউল্লাাহ সবুজ সিলেটকে বলেন, মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পুরো নগরীজুড়েই ডাকাতের হামলার গুজব ছড়িয়ে দিয়েছিল। এতে আতঙ্কিত হওয়া কিছু নেই। মসজিদের ইমামদের নিয়ে পরামর্শ সভা করবেন বলে তিনি জানান।

সর্বশেষ সংবাদ