বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ, ২ দুর্ঘটনায় ১ জনের মৃত্যু



শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:: শ্রীমঙ্গলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই চলছে বহুতল ভবন নির্মাণ। ১ মাসের ব্যবধানে নির্মানাধীন একটি ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যু ও অপর একজন একজন আহত হয়েছে। উপজেলার রাধানগর গ্রামে শ্রীমঙ্গল প্যারাগন রিসোর্ট নামে একটি বহুতল ভবনে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে গত ১৭ নভেম্বর রাতে নির্মানাধীন এই ভবনের কাজ করার সময় অসাবধানতা বসত তাজু মিয়া ( ৩৫) নামে এক শ্রমিক ৫ তলায় থেকে নীচে পড়ে যায়। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাজুল একই এলাকার মৃত আনফর মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। এছাড়া গত ২২ অক্টোবর একই ভাবে ভবনের ৫ তলা থেকে পড়ে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানার শাকিল মিয়া (২৬) নামে অপর এক শ্রমিক নিহত হয়।

মঙ্গলবার ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা গেছে, ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনের ৫ তলার ছাদের উপর শ্রমিকরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ছাড়াই কাজ করছে। সেখানে নিরাপত্তা সামগ্রী ছাড়াই ঝুকি নিয়ে আগের মতোই কাজ করছে। স্থানীরা জানান, ভবন নির্মানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় একর পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
তাজুলের শ্বশুর ইসমাইল মিয়া বলেন, ‘এত বড় ভবন নির্মানে কর্তৃপক্ষ কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখেনি। তিনি অভিযোগ করেন গত মাসে এই ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর পরও প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে নিরাপত্তা মূলক কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি’।

নির্মান প্রতিষ্ঠানের ফোরম্যান অহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। শ্রমিকরা যদি অসর্ত থাকে, নিরাপত্তা সামগ্রী না পড়ে আর সেজন্য দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের কি করার আছে। তিনি বলেন ক্ষতিগ্রস্থদের প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে’।
প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘শ্রমিকদের সেফটি ইক্যুইপমেন্ট দেয়া আছে। এটা ঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি ছিলনা যে কারনে এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখন আমরা নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি’ বলে জানান।

জানতে চাইলে কল-কারখানা অধিদপ্তরের উপ মহা পরিদর্শক মো. ইউসুফ আলী বলেন, নিহত ও আহত শ্রমিকদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও ভবন নির্মানের বিধিমালা প্রয়োগে বাধ্য করতে মালিকপক্ষকে নোটিশ করা হচ্ছে। এছাড়া শ্রম মন্ত্রনালয়ের শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন থেকেও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। শ্রীমঙ্গল গৃহ নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সমির মিয়া বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কেউ অভিযোগ করেনি।