বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সামাদপুত্র ডন নৌকার জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন, এ লজ্জা কার ?



জগন্নাথপুর প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ ৩ আসনে সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রয়াত জাতীয় নেতা আলহাজ¦ আবদুস সামাদ আজাদের পুত্র আজিজুস সামাদ ডন দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন। ডন দলীয় প্রতীক নৌকা পাবেন কিনা এমন আশঙ্কায় সারাক্ষণ শঙ্কিত রয়েছেন নেতাকর্মীরা। এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। এ লজ্জা কার। এমন প্রশ্ন দলীয় ক্ষুব্দ নেতাকর্মীদের। আসলে রাজনীতি বুঝা বড় মুশকিল। কখন কি হয়। কেউ জানে না।

জানাগেছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর জাতীয় নেতা আবদুস সামাদ আজাদ। ১৯৭১ সালে দেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সামাদ আজাদ বিশ^ জনমত গড়ে তুলে ছিলেন দেশ স্বাধীনের জন্য। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর আ.লীগ রীতিমতো ভেঙে পড়েছিল। তখন আ.লীগকে পুর্ণগঠিত করেছিলেন সামাদ আজাদ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন সামাদ আজাদ। তিনি জীবিত থাকাকালে প্রতিটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সামাদ আজাদের হাত ধরে অনেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আ.লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। এখনো রাজনীতিতে সামাদ আজাদের অনেক শিষ্য রয়েছেন। যদিও অধিকাংশ শিষ্য সামাদ পরিবারের সাথে বেঈমানী করেছেন। এ লজ্জা কার। যে সামাদ আজাদ অন্যান্য প্রার্থীকে নৌকা দিতেন, এখন তাঁর পুত্র নৌকার জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরছে।

বর্তমানে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীক নৌকা পেতে সামাদপুত্র আজিজুস সামাদ ডন কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন। এরপরও নিশ্চিত নয়। আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন কি না। ঝুলে রয়েছে ডন ভক্তদের ভাগ্য। কোন দিকে যাবেন সামাদপুত্র ডন। দলীয় প্রতীক নৌকা পেলে তিনি অনায়াসে নির্বাচিত হবেন। প্রাণচাঞ্চল্যতা ফিরে আসবে নেতাকর্মীদের। তবে যদি তিনি নৌকা না পান, তাহলে কি হবে। কোথায় যাবেন হাজার হাজার ডন ভক্তরা। এ নিয়ে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে গেছে।

এদিকে-এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে, দলীয় প্রতীক নৌকা নাকি অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান পাবেন। এমন খবরে ডন ভক্তরা হতাশ হলেও আশা ছাড়েননি। তাই জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান রেখে নৌকার বিজয় নিশ্চিতের লক্ষে সুনামগঞ্জ ৩ আসনে আজিজুস সামাদ ডনের বিকল্প নেই বলে জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল মনাফ, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও উপজেলা আ.লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ সাবির মিয়া, উপজেলার কলকলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আ.লীগ নেতা আলহাজ¦ আবদুল হাশিম, পাটলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আংগুর মিয়া, আ.লীগ নেতা শাহিদুল ইসলাম বকুল, উপজেলা আ.লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাস্টার সিরাজ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক জয়দ্বীপ সূত্রধর বীরেন্দ্র, পৌর আ.লীগের সদস্য সচিব ও পৌর কাউন্সিলর আবাব মিয়া, জগন্নাথপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ সুহেল আহমদ, জগন্নাথপুর বাজার সেক্রেটারী জাহির উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মোতাহির আলী, উপজেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি ফারুক আলী সহ দলীয় নেতাকর্মীরা জানান।