শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের হাওররক্ষা বাঁধের কাজ দ্রুত শুরুর দাবি কৃষকদের



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের ছোট বড় হাওর গুলোতে এবার যথা সময়ে পানি নিষ্কাশন হলেও পিআইসি গঠন না হওয়ায় হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হয় নি। এতে করে আতœংকের মাঝে আছে লাখ লাখ কৃষক পরিবার। এখন কাজ শুরু করা গেলে যথাসময়ে বাঁধ নির্মান শেষ করা যাবে। তবে কৃষকদের দাবি প্রকৃত কৃষকদের সমন্বয়েই যেন দ্রুত কমিটি গুলো করা হয়। আর কমিটি গুলো নজরদারিতে থাকলে সঠিক ভাবে কাজ আদায় করা সম্ভব হবে। গতবার নানা অনিয়ম হলেও কাজ যতটুকু হয়েছে খারাপ হয় নি। প্রকৃতি সদয় থাকায় পুরো ফসলই গোলায় তোলা গেছে। এবারও হাওরের মানুষ স¤পূর্ণ ফসল গোলায় তোলতে সম্ভব হবে। এখন প্রশাসনে নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষ হলেও। হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির(পিআইসি)কাজ শুরু করা হয় নি। যে কারণে এখনো কমিটি গুলো গঠিত হয় নি।

জানাযায়,জেলায় এবারও ছোট-বড় মিলিয়ে ৩৭টি হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এবার হাওরে ২লাখ ১৫হাজার ৬১৫হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাম্পার ফলনের প্রত্যাশায় এবারও লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে। কৃষকরাও বীজতলা তৈরি,জমি তৈরিসহ আনুষঙ্গিক কাজ শুরু করেছেন। হাওরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে যথাসময়ে কাজ শুরু করে শেষ করা গেলেই কৃষক খুশি ও স্বস্তিতে থাকেন বলে জানান তারা। কিন্তু কাবিটা নীতিমালা অনুসারে ১৫ডিসেম্বর হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজ শুরু করে ফেব্রুয়ারির ২৮তারিখ শেষ করার কথা। কিন্তু এবারও অতীতের মতো এই সময়ে কাজ শুরু করা যায় নি। বিলম্ব হওয়ায় কাজ যথাসময়ে কাজ শেষ করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত ৩০নভেম্বরের মধ্যে পিআইসি গঠন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এসময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনী কার্যক্রম থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ কাজটি নিচে পড়ে যায়। যে কারণে যথাসময়ে পিআইসি গঠনের কাজ শুরু করা সম্ভব হয় নি। তবে এখন নির্বাচনী ব্যস্ততা শেষ হওয়ায় পিআইসি গঠনের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শুরুতে কাজ বাস্তবায়ন করা গেলে বাঁধের কাজ মজবুত ও টেকসই হয় বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।

পাউবো সূত্রে জানাগেছে,এবার হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ৫৫৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৯৩কোটি টাকা বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২৩কোটি টাকা ছাড়ের ব্যবস্থা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে এবারও প্রয়োজনীয় প্রকল্পে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দিয়ে প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন হাওর আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশায় পিআইসি গঠনের কথা জানালেও গতকাল ২জানুয়ারি বুধবার পর্যন্ত পিআইসি’র অনুমোদিত কপি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ে এসে পৌঁছে নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বকর ছিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,নির্বাচনী ব্যস্ততা ছিল প্রশাসনের সব স্তরে। এ কারণে পিআইসি গঠন সম্ভব হয় নি। এখন এই ব্যস্ততা কমে যাওয়ায় কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি র্শীঘই পিআইসি অনুমোদন করে কাজ শুরু করা যাবে।