সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাতের অন্ধকারে জিনে আগুন দিচ্ছে বাড়ি ও দোকানে!



নিউজ ডেস্ক:: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে জিনের কাণ্ড দেখিয়ে রাতের বেলা একের পর এক বাড়ি ও দোকান ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত এক মাসে ওই গ্রামে একাধিক আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে কাশিয়ানীর শংকরপাশা গ্রামে। যদিও এ বিষয়টিকে এলাকার সন্ত্রাসীদের কাজ বলে আখ্যা দিয়েছেন সচেতন মহল। আর পুলিশ বলেছে বিষয়টি তারা তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।

কাশিয়ানী উপজেলার মধুমতি নদী পাড়ের গ্রাম শংকরপাশা। শান্ত, গাছ-গাছালিতে ভরা এ গ্রামের মানুষকে বেশ নম্র-ভদ্র বলেই মনে হয়। অথচ গত এক মাসে এ গ্রামেই দু’টি দোকান-ঘরসহ ৬টি ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয় রাতের বেলা।

যাদের ঘর পোড়ানো হয়েছে তারা হলেন, সিরাজুল মুন্সীর ছেলে শাবু মুন্সীর (৫০) ঘর, সাদেক মুন্সীর ছেলে হাসান মুন্সীর (৬০) দোকান ঘর, সামসুল মুন্সীর ছেলে লিটন মুন্সীর (৪০) দোকান ঘর, মৃত আবুল শেখের ছেলে আনোয়ার শেখ (৪৫)-এর বসতঘর এবং মৃত আবুল শেখের ছেলে মনিরুজ্জামান শেখের (৩২) ঘর আর জিয়া শেথের মেহগনি গাছের বাগান।

কারা এবং কেন এসব ঘরে বা গাছে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ক্ষতিগ্রস্তরা তা বলতে পারেন না। তাদের কোন শত্রু নাই এমনটাই তাদের ধারণা। কেন যে তাদের ঘরে আগুন ধরে যাচ্ছে আর পুড়ে যাচ্ছে সব। ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের বাড়িতে এক রাতেই ৩ বার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে এবং ভোর রাতের দিকে।

শুধু এ বাড়িতেই নয় অন্য আরো বেশ কয়েকটি বাড়িতে এমন ঘটনা ঘটেছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য এসব ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে, তা কেউ দেখতে পারেনি। এমনকি গ্রামে পাহারা বসিয়েও দুস্কৃতিকারীদেরকে ধরা সম্ভব হয়নি। আর এই সুযোগে এসব কর্মকাণ্ড জিনের দ্বারা সংঘটিত হচ্ছে, এমনটি চাউর করা হচ্ছে সুকৌশলে প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করতে জিনের আছর বলা হচ্ছে।

নিরীহ এলাকাবাসীর রাত কাটছে অনেকটা শংকার মধ্যে। রাতের বেলায় ঘুমাতে পারছেন না কেউ। কখন কার বাড়িতে আগুন লেগে যায় এই ভয়ে ভয়ে প্রতিটি রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ অবস্থা থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী।

পুড়ে যাওয়া দোকান মালিক লিটন শেখ বলেন, আমাদের এলাকাটি আগে শান্তশিষ্ট ও সুশৃংখল ছিল। হঠাৎ করে গ্রামের কিছু উৎশৃংখল যুবক আছে তারা সমাজে বিশৃংখলা ঘটাচ্ছে। হঠাৎ করে আমার দোকান পুড়িয়ে দেয়। আমার পাশের দোকানদার হাসান মন্সীর দোকানও পুড়িয়ে দেয়া হয়। এতে আমার প্রায় দুই আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর পর গ্রামবাসি বসে। সেখানে সিধান্ত হয় গ্রামের সবাই মিলে এই অপকর্মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে। কিন্তু কিছুই হয়নি। এর পরেও বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।আমরা সব সময়ই বিপদের আশংকায় থাকি।

ওই গ্রামের আনোয়ার শেখের স্ত্রী ফাতেমা বেগম(৩৩) বলেন, ৫ জানুয়ারী রাতে হঠাৎ করে আমার ঘরে আগুন জ্বলে ওঠে। কে বা কারা আগুন ধরিয়েছে আমরা দেখিনাই। আমাদের বাড়িতে এদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত তিনবার আগুন লাগানো হয়।এলাকায় আমাদের কোন শত্রু নাই। কেন যে আমার ঘরটি পোড়ালো তা বুঝে উঠতে পারছিনা। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের সাজা হোক এটাই আমার দাবী।

ক্ষতিগ্রস্থ শংকরপাশা গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৪৮) বলেন, রাত যেগে পাহারা দিচ্ছি। রাতে আমরা ঘুমাতে পারিনা।আমরা এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।

ক্ষতিগ্রস্থ শাবু মুন্সী বালেন, রাতের আধারে আমার গোয়াল ঘরে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে মসজিদের মাইকে লোকজন ডাকা হয়।এলাকাবাসী পানি দিয়ে আগুন নিভায়।এরপর থেকে আমরা আতংকে আছি।রাতে ঠিকমতো ঘুমও হয় না।

১নং শংকরপাশা রাতইল ইউনিয়নের মেম্বার মিরাজ শেখ বলেন, এটা আমরা কিছু বুঝতে পারছিনা। কেন যে আগুন ধরছে। এই নিয়ে গ্রামবাসী মিটিং করেছে। অপরাধীদেও ধরার চেষ্টা করবে বলেও সিধান্ত হয়েছিল। কিন্তু কাজ হয়নি। এর পর আবার আগুন লাগে। আমরা দল বেধে পাহারার ব্যবনস্থা করেছে।

এলাকার বাসিন্দা ও রাতইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আঞ্জুরুল হাসান বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য হয়তো জ্বিনের কান্ড বলে চালানো হচ্ছে বা বাড়িতে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। যারা এসব করছে তারা হয়তো অন্য কোন বড় ধরনের অপরাধ করছে। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুকসুদপুর সার্কেল) হুসাইন মোহাম্মদ রায়হান জানান, ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ দায়ের না করলেও আমরা পুলিশের পক্ষ থেকে স্ব-প্রণোদিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। দোষীরা যেই হোক তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।