বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে হেলাল শেখ’র বোর্ড অব ইলেকশনে পিটিশান দাখিল



সাখাওয়াত হোসেন সেলিম ::
আসন্ন স্পেশাল নির্বাচনে নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে বাংলাদেশী-আমেরিকান হেলাল আবু শেখ বোর্ড অব ইলেকশনে ৬২০০ রেজিট্রার্ড ভোটারের স্বাক্ষরসমেত পিটিশান দাখিল করেছেন। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে বোর্ড অব ইলেকশনে স্থানীয় সময় গত ১৪ জানুয়ারী সোমবার মধ্যরাতে তার নির্বাচনী এলাকার রেজিট্রার্ড ভোটারদের স্বাক্ষরসমেত এ পিটিশান জমা দেন। এসময় পাবলিক এডভোকেট প্রার্থী হেলাল আবু শেখের সঙ্গে ক্যাম্পেইন কর্মকর্তারা ছাড়াও বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন নার্গিস আহমেদ, মুকবুল রহিম চুনুই, মনির আহমেদ, আবদুন নূর, বেলাল আবু শেখ, আবদুল আহাদ, নাসিম প্রমুখ।
নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে স্পেশাল এ নির্বাচনে মোট ২৪ জন প্রার্থী বোর্ড অব ইলেকশনে তাদের পিটিশান দাখিল করেছেন। যদিও এ নির্বাচনে ২৯ জন প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দীতা করার কথা শুনা গিয়েছিল।
পিটিশান দাখিল শেষে হেলাল আবু শেখ বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ৩৭৫০ রেজিট্রার্ড ডেমোক্রেটিক ভোটারের স্বাক্ষরসমেত পিটিশান জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও ৬২০০ ভোটারের স্বাক্ষরসমেত পিটিশান দাখিলের মাধ্যমে পাবলিক এডভোকেট পদে প্রার্থী হিসেবে ব্যালটে তার নাম অন্তর্ভূক্তির বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত হল। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে পাবলিক এডভোকেট পদে তার অফিসিয়ালী নির্বাচনী অভিযাত্রা শুরু হল। ২৬ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠেয় নির্বাচনেও ভোটারা তাকে বিপুলভাবে নির্বাচিত করবেন বলে হেলাল শেখ আশাবাদী। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৯০ হাজার বাংলাদেশী-আমেরিকান রেজিট্রার্ড ভোটার রয়েছেন। তাদের অন্তত অর্ধেক ভোটার কেন্দ্রে গেলেই নির্বাচিত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে তার। তার ধারনা এ নির্বাচনে ৭/৮ হাজার ভোট পেলেই বিজয়ী হওয়া সম্ভব। হেলাল শেখ বাংলাদেশী-আমেরিকান ভোটাদের কেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন জানিয়ে বলেন, আমি নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক এডভোকেট পদে নির্বাচিত হলে বাংলাদেশী-আমেরিকানদের কন্ঠস্বর হিসেবে ভ‚মিকা রাখব। কমিউনিটির অধিকার আদায়ে জোরালো চেষ্টা চালাব। নির্বাচনে তিনি সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, আমি আপনাদের নিয়ে গড়ে তুলতে চাই একটি সুন্দর কমিউনিটি।
উল্লেখ্য, হেলাল আবু শেখ ২০১৩ ডিস্ট্রিক্ট ৩৭ ব্রুকলীন এবং ২০১৭ সালে ডিস্ট্রিক্ট ৩২ কুইন্স থেকে কাউন্সিলম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন। সে নির্বাচনে দক্ষিণ এশিয়ানদের মাঝে ব্যাপক আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন। গড়ে তোলেন তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
সিলেটের বিশ্বনাথের বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট তজম্মুল আলীর চতুর্থ সন্তান হেলাল আবু শেখ ১৭ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি নিউইয়র্ক সিটি কলেজ অব টেনোলজি থেকে কম্পিউটার ইনফরমেশন বিষয়ে ব্যাচেলর করেন। এ কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি দক্ষিণ এশিয়ানদের মধ্যে সর্ব প্রথম স্টুডেন্ট গভর্ণমেন্ট এসোসিয়েশনের ভিপি নির্বাচিত হন বিপুল ভোটে। পরে ব্রæকলীন কলেজ থেকে গণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর নিউইয়র্ক সিটি বোর্ড অব এডুকেশনের অধীনে পাবলিক স্কুল শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। ২০১৩ সালে সিটি কাউন্সিলম্যান পদে নির্বাচনের প্রাক্কালে শিক্ষকতার পদ থেকে অবসর নেন। সে থেকে পূর্ণকালীন রাজনীতিক-সামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্কুল শিক্ষক হেলাল আবু শেখের সহধর্মিনী ডা. তানিয়া মুকিত শেখ ব্রঙ্কসের মন্টিফিয়ার হসপিটালের এটেন্ডিং ফিজিশিয়ান। তাদের তিন সন্তান মাইশা, মালিহা এবং মেহরান।