শুক্রবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আরিফ-শফি চৌধুরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে আসা-যাওয়া নিয়ে নানা গুঞ্জন



নিউজ ডেস্ক:: সিলেট নগরীর ধোপাদিঘীর পূর্বপাড়ে অবস্থিত সুরমা ভবনের নাম ‘হাফিজ কমপ্লেক্স’। এত দিন এই ভবনটির পরিচিতি ছিল ‘মুহিত সাহেবের বাড়ি’ (সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত)। সিলেটের প্রথম কনভেনশন হল হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে ভবনটির। নতুন মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হয়নি মুহিতের। তবে হাফিজ কমপ্লেক্সের আরেক সদস্য (মুহিতের ছোট ভাই) ড. এ কে আবদুল মোমেন স্থান পেয়েছেন, হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তবে এসব কিছু ছাপিয়ে এখন সিলেটের রাজনীতিতে নানা গুঞ্জনের জন্ম দিয়েছে সিলেটের তিন চৌধুরীর ‘হাফিজ কমপ্লেক্স’ ভবনে গমনাগমনের ঘটনা। ইনাম আহমদ চৌধুরীর আওয়ামী লীগে যোগদান দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনার হাওয়ায় নতুন গতি এনেছে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য শফি আহমদ চৌধুরী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর হাফিজ কমপ্লেক্সে গিয়ে ড. মোমেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো। এ নিয়ে বিব্রত সিলেট বিএনপিও।

নির্বাচন নিয়ে দলীয় বিতর্ক শেষ হওয়ার আগেই বাসায় গিয়ে ড. মোমেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখছেন না দলটির নেতা-কর্মীরা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন বিএনপির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী। ২৮ নভেম্বর তিনি মনোনয়নপত্রও জমা দেন। মনোনয়নপত্র জমাদানের পর দিন সকালে তিনি ‘হাফিজ কমপ্লেক্সে’ দেখা করতে যান অর্থমন্ত্রী মুহিতের সঙ্গে। অর্থমন্ত্রী ও তার ভাই সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।

ইনাম চৌধুরী এই বৈঠককে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলে দাবি করেছিলেন। দীর্ঘদিনের পারিবারিক সম্পর্ক থেকেই তিনি দেখা করতে গিয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন। ইনামের ‘হাফিজ কমপ্লেক্সে’ যাত্রাকে ভালোভাবে নেননি দলীয় নেতা-কর্মীরা।

ওই সময়ই ঝড় ওঠে সমালোচনার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে ১৯ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ফুল দিয়ে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। ২১ ডিসেম্বর তিনি সিলেট ফিরে হাফিজ কমপ্লেক্সে সভা করে ড. মোমেনকে বিজয়ী করতে সিলেটবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। ইনাম আহমদ চৌধুরীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পরে আওয়ামী লীগে যোগদান ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনায় আসে ‘হাফিজ কমপ্লেক্স’।

সেই রেশ কাটতে না কাটতে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে ‘হাফিজ কমপ্লেক্সে’ গিয়ে নবগঠিত মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে গত নির্বাচনে সিলেট-৩ আসনে ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী শফি আহমেদ চৌধুরী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর শুভেচ্ছা জানানোর ঘটনা।

শফি আহমেদ চৌধুরী ও আরিফুল হক চৌধুরী দুজনই বিএনপির কার্যনির্বাহী সদস্য।গত বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় মেয়র আরিফ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলী ও সচিবসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ‘হাফিজ কমপ্লেক্সে’ গিয়ে ড. মোমেনকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

মেয়রের দৈনন্দিন সব সংবাদ গণমাধ্যমে পাঠানো হলেও মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানোর তথ্য দিনভর চেপে রাখা হয়। রাতে ঘটনাটি জানাজানি হলে দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ‘হাফিজ কমপ্লেক্সে’ যান বিএনপির শফি আহমেদ চৌধুরী। তিনিও ড. মোমেনকে অনেকটা গোপনে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু সেই গোপন শুভেচ্ছার খবরটি গোপন থাকেনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুভেচ্ছা জ্ঞাপনের ছবিটি প্রকাশ হলে তাকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়।

একটি গুঞ্জন হলো- শফি আহমেদ চৌধুরী ও আরিফুল হক চৌধুরী কি শেষ পর্যন্ত ইনাম আহমদ চৌধুরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন! তবে শফি ও আরিফ দুজনেই এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, স্রেফ সৌজন্য সাক্ষাতের জন্যই তারা হাফিজ কমপ্লেক্সে গিয়েছিলেন। তারা বলেন, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কেউ রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছেন।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, ‘একটি নিষ্টুর প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীকে বিএনপি নেতারা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করবেন- এমন দৃশ্য সিলেটের নেতা-কর্মীরা দেখতে চাননি।