বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা চান অসুস্থ সরকারি কর্মচারী শামীম



ডেইলি সিলেট ডেস্ক ::

অর্থাভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারছেন না সিলেট জেলা প্রশাসক অফিসের অফিস সহকারী শামীম হোসেন চৌধুরী। তার হার্টে বর্তমানে ১টি রিং লাগানো রয়েছে। প্রতিমাসে ডাক্তার দেখানো ও নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে তার বেতনের অর্ধেক চলে যায়। বাকী অর্ধেক টাকায় বাসাভাড়া ও সংসার খরচ চালানো সম্ভব হয়না। তার উপর রয়েছে দুই শিশু সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। সবমিলিয়ে বর্তমানে খুবই দুরবস্থায় তার দিন যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সহায়তার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আবেদন করলেও কোন সাঁড়া মিলেনি।

সিলেটের ওসমানীনগর থানার গহরপুর প্রকাশিত বেড়াখাল গ্রামের মরহুম মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর পুত্র শামীম, সিলেট জেলা প্রশাসক অফিসে অফিস সহকারী হিসাবে কাজ করছেন গত প্রায় ২৭ বছর ধরে। ২০১৫ সালের অক্টোবর মাসে তার হার্টের ৩টি ব্লক রয়েছে বলে অনুমান করেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আয়শা রফিক চৌধুরী, আমীনুর রহমান লস্কর ও অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ২০১৫ সালের অক্টোবরে তিনি ঢাকায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে গিয়ে জরুরী ভিত্তিতে এনজিওগ্রাম করেন। ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ পরীক্ষায় তার ৩টি ব্লক রয়েছে বলে প্রমাণ হয়। ডাক্তারদের পরামর্শে ঐ বছরের ৪ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত ন্যাশনাল হার্টফাউন্ডেশনে তিনি দ্বিতীয়বার ভর্তি হন। ডক্তাররা তার হার্টে একটি রিং বসিয়ে দেন। এরপর জানান, অন্য ব্লকগুলো ঔষধেই সারবে। তারা আরও জানান, সবসময় ঔষধ ও নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে ১বার করে তিনি ডাক্তারের কাছে ছুটছেন। পাশাপাশি ঔষধও সেবন করছেন। সামান্য বেতনের অর্ধেকের বেশি চলে যায় ঔষধ ও চিকিৎসার খরচ বাবদ। রিং লাগাতে ও প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাবদ তার খরচ হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার টাকা। আর ঢাকায় যাতায়াতসহ অন্যান্য খরচসহ মোট প্রায় ৩ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে। এতটাকা তার ছিলনা। কিছু নিজের আর বাকীটা আত্মীয় স্বজনের কাছে ধারদেনা করে তারপর সেযাত্রায় তিনি উদ্ধার হয়েছিলেন। কিন্তু এখনও ঋণের বোঝা মাথায় তিনি ঘুরছেন।

তাছাড়া তার স্ত্রীও অসুস্থ। এ অবস্থায় তার পেছনেও অনেক টাকা খরচ হয়। তিনি ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারী রেজিষ্ট্রি ডাকযোগে সব ডকুমেন্টসহ আর্থিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আবেদন করলেও কোন লাভ হয়নি। এ ব্যাপারে এখনও তিনি কোন সাড়া পাচ্ছেন না। তার আবেদন মঞ্জুরের জন্য সুপারিশ করেছিলেন, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ।