বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে পণ্য মেলার ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর খেলার মাঠে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে এ মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় সুনামগঞ্জ শিল্প ও পণ্য মেলা। কিন্তু দেশী পণ্য প্রসারের নামে মেলা আয়োজন করা হলেও বাংলাদেশ বেনারসি মসলিন এন্ড জামদানী সোসাইটি নামের সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে সার্কাস,পুতুল নাচ,গাড়ি রেস,ওয়াটার পার্ক স্থাপন ও লটারির আয়োজন। এতে করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার উঠেছে। শুরুতেই ঢাকঢোল পিটিয়ে শুরু হলেও মেলাকে ঘিরে ব্যবস্থাপকদের ছিল অন্য চিন্তা। মেলার শুরুর দিন থেকেই ব্যবস্থাপকরা শহর ও আশেপাশের গ্রামঞ্চলে সার্কাস,পুতুল,গাড়ি রেস,ওয়াটার পার্ক ও লটারির কথা মাইকিং করে প্রচার শুরু করে। আর সার্কাস,পুতুল নাচ,গাড়ি রেসের উচ্চ শব্দে বিপাকে পড়েছেন মেলার পাশেপাশে বসবাসকারী এসএসসি পরীক্ষার্থী ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা। তারা দ্রুত মেলার বন্ধের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে,মেলায় প্রবেশ মুখেই যে ষ্টল গুলোতে বিক্রি হচ্ছে শাড়ি,ক্রোকারিজ,খাবারসহ বেশ কিছু কিছু জিনিসপত্র। পুরো চত্বর জুড়ে স্থাপন করা হয়েছে বাচ্ছাদের খেলাধুলার রেলগাড়িসহ নানা সরঞ্জাম। মেলার অর্ধেক স্টল খালি পড়ে থাকলেও সেখানে ভালো পণ্যের দোকান বসানোর কোন উদ্যোগ নেই ব্যবস্থাপকদের। মেলার স্টলের চেয়ে সাধারণ মানুসের ভীড় বেশি সার্কাস,পুতুল নাচ,ওয়াটার পার্ক,ডেঞ্জার গাড়ি রেসে। ফলে স্টল দেয়া দোকানীরা পড়েছেন বিপাকে। দোকানে কেনাকাটা না করে মেলার দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন নাচ গানের আসর সার্কাস ও পুতুল নাচে। সার্কাসে শিশুদের নিয়ে প্রবেশ করে অভিভাবকদের বির্বতকর অবস্থায়। অশ্লিল অঙ্গিভঙ্গিও কারণে পরিবারসহ সার্কাস দেখতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন তারা। প্রতিদিন শত শত মানুষ মেলায় না ঘুরেই লটারির আশায় টিকেট কাটছেন। এদের মধ্যে কিশোর ও তরুণ বয়সীই বেশি।

মেলার পণ্যেও মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বেশির ভাগ স্টলে বিদেশী বলে বিক্রি করা হচ্ছে চোরাই পথে আসা বিভিন্ন পণ্য। যা থেকে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। পারফিউমস অনেক পণ্যের গাঁয়ে লেখা নেই মেয়াদেও তারিখ।

জানা গেছে,সার্কাস ও লটারির আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসনের পৃথক ভাবে অনুমতি নিতে হয়,পণ্য প্রসারের জন্য আয়োজন করা মেলায় সার্কাস পার্টির আয়োজনের নিয়ম নেই। সেক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করেই প্রতারণা আশ্রয় নিয়ে সার্কাস,বিদপজনক গাড়ি রেস,পুতুল নাচ ও লটারির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া পুরো শহরেই মাইকিং করে মেলায় আয়োজন করা লটারি বিক্রি করা হচ্ছে। আবার অনেকে বলছেন,এটা নামে শিল্পও পণ্য মেলা হলেও আড়ালে আয়োজকরা হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। বিনোদনের মধ্যে রয়েছে নাগরদোলা যার টিকেট মূল্য ৩০টাকা,নৌকা দোলনা টিকেট ৫০টাকা,রেলগাড়ি ৩০টাকা,হেলিকপ্টার বিনোদন ৩০টাকা,মোটর সাইকেল ও গাড়ির জেন্ডার গেইম টিকেট মূল্য ৩০টাকা, হাতিঘোড়া চড়কী টিকেট ৩০টাকা।
এছাড়াও রয়েছে বড়দের জন্য সবচেয়ে বেশি সময়ের বিনোদন দিবরুল সার্কাস যার টিকেট মূল্য ৫০টাকা, ৭০টাকা, ৯০টাকা। এত বেশি টাকার কারণেই আড়াই ঘন্টার এই বিনোদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শতশত দর্শক। শুধুমাত্র যমুনা পার্কে বেবি বিনোদনের ব্যবসার নামে তারা প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা।
শহরের ষোলঘর এলাকার সুমা বেগম বলেন,প্রতিদিন বিকেল থেকেই মেলায় মাইক বাজানো শুরু হয়,চলে রাত ১২টা পর্যন্ত। উচ্ছস্বরে মাইক বাজানোর কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা পড়াশোন করতে পারছে না। শুধু পরীক্ষার্থীরা না আবাসিক এলাকার ভেতরে মেলার কারণে বাসিন্ধারাও শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছেন।

সুমন নামের এক অভিবাবক বলেন,মেলায় একটি স্টলে বডিস্প্রে’র মেয়াদ উত্তীণের তারিখ বলা হয়েছে ৩বছর। কিন্তু বিশ্বেও কোন দেশে এতো দিনের মেয়াদী কোনও বডি স্প্রে পাওয়া য়ায় কিনা আমার জানা নেই। এটি নিছক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তারা আরো জানান, যাদের টাকা আছে তাদের সন্তানরাই এই পণ্য মেলায় এসে বাচ্চাদের বিনোদন হিসেবে খ্যাত স্লিপার বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন। বাচ্চাদের স্লিপার বিনোদনের টিকেট ১৫ মিনিটের জন্য কিনতে হয় ৩০০ টাকায়।

মেলা দেখতে আসা বেশ কয়েকজন জানান,তাদের পকেট কেটে মানিবেগসহ সব টাকা নিয়ে গেছে পকেটমার চক্র। শিল্প ও পণ্য মেলার নামে এই বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ করে মেলায় সাধারন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের জন্য সহনীয় পর্যায়ের টিকেট বিনোদন রাখার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট দাবী জানাচ্ছেন। এবিষয়ে আয়োজনকারী ও কতৃপক্ষ নজর দিবেন এমনটাই আশা করছেন ভূক্তভোগী সুনামগঞ্জ বাসী।

সুনামগঞ্জ ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব আহমদ বলেন,পণ্য মেলার নামে আয়োজন করা হলেও এটি প্রতারণা মেলা বলা যায়। পণ্য মেলার কিছুই নেই এতে বাজারের পণ্য বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আমার ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। বেআইনিভাবে লটারি, সার্কাসের আয়োজন করে টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে।

মেলার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন,মেলায় যা কিছু হচ্ছে অনুমতি নিয়েই হচ্ছে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান ইমদাদ রাজা চৌধুরী বলেন, মেলা চলবে সরকারের নীতিমালার আলোকে। কেউ যদি এখানে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন এবং মেলার সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে মেলায় অশ্লীল নৃত্য চালানোর চেষ্টা করেন তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন,মেলায় সার্কাস,লটারির আয়োজন করা হয়েছে আমার জানা ছিল না,আমি এব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।