মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ সুপ্রিম কোর্টে পালিত হবে ২ মার্চ



নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশে প্রতিবছর দিনব্যাপী সভা-সমাবেশ, সেমিনার ও র‌্যালি আর বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালিত হয় ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। বেগুনি রঙের শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা নিজের পছন্দের মতো পোশাকটি পরে দিনটি উদযাপন করে থাকেন নারী। প্রতিবারের মতো এবারও নারী দিবস পালন উপলক্ষে নারী আইনজীবীরা আয়োজন করেছেন নানা অনুষ্ঠানের।

৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হলেও নারী আইনজীবীরা আগামী ২ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ সফিউর রহমান মিলনায়তনে দিবসটি উদযাপন করতে যাচ্ছেন।

সেখানে প্রধান অতিথি থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা। এর আগে গত বছর নারী দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে অবসরে যাওয়া প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা। তারই ধারাবাহিকতাই এবারের আয়োজনে আপিল বিভাগে আসা দ্বিতীয় নারী বিচারপতি জিনাত আরা থাকছেন।

আগামী ২ মার্চ শনিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০১৯’ উদযাপন করতে যাচ্ছেন বলে জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন।

তিনি জানান, অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুন নাহার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এমপি, দেশের প্রথম নারী মেজর জেনারেল সুশানে গীতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ফারজানা ইসলাম, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও লেখিকা সেলিনা হোসেন, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র আইনীজী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

দক্ষিণ বাংলা নারী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুরাইয়া বেগম ও সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট রেহানা সুলতানাও জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন রাষ্ট্রে নারী দিবসের এই দিনটিকে ঘিরে নানা আয়োজন করা হয়। কানাডায় নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে ব্যাকনোটে যুক্ত করা হয় নারীর ছবি, যা দেশটির মুদ্রার দেড়শ বছরেও হয়নি। নারী দিবসকে ঘিরেই এ আয়োজন করেন তারা। এ ছাড়া নারীর প্রতি সম্মান জানিয়ে সৌদি আরবেও পালিত হয় বিশ্ব নারী দিবস। তবে, সৌদিতে ৮ মার্চ নারী দিবস পালন না করে তাদের মতো দিন ঠিক করে দিনটি পালিত হয়। অন্যদিকে চীন, জাপানে দিনটিতে নারীদের কর্মস্থল থেকে ছুটি ঘোষণার রেওয়াজ আছে।

বিশ্ব নারী দিবস পালনের নেপথ্যে মূলত রয়েছে নারী শ্রমিকের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের ইতিহাস। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মজুরি-বৈষম্য, কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় নেমেছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকারের লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন।

১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হয়। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বছর ৮ মার্চকে ‘বিশ্ব নারী দিবস’ হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন।

১৯১১ সাল থেকে সিদ্ধান্ত হয় নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চে নারী দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশ ১৯৭৫ সাল থেকে ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালন করছে। বর্তমানে পৃথিবীজুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি, নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সেই থেকেই আজ অবধি ৮ মার্চ বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব নারী দিবস’।