বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক শ্রীমঙ্গলের কামরুল হাছান



শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা:: মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষক হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাছান। জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ইং, প্রতিযোগিতায় তিনি মৌলভীবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে গত সোমবার (২৫ মার্চ) শহরের সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা অফিস আয়োজিত সদন পত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান (শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক) নির্বাচিত হওয়ার অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ কমিটির আহবায়ক মো: তোফায়েল ইসলাম হাত থেকে সম্মাননা সনদ ও ক্রেষ্ট গ্রহণ করেন শিক্ষক কামরুল হাছান।

জেলা শিক্ষা অফিসার ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ কমিটির সদস্য সচিব এ, এস, এম আব্দুল ওয়াদুদ এর সভাপতিত্বে ওই অনুষ্ঠানে মৌলভীবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল আলী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আশলাফুল ইসলামসহ আরো অনেকেই বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বৃহস্পতিবার মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাছান শ্রীমঙ্গল উপজেলার শ্রেষ্ঠ নির্বাচিত হলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস এর আয়োজনে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার হাতে সম্মাননা সনদ ও ক্রেষ্ঠ তুলে দেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব দীলিপ কুমার বর্ধন।
এ সময় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ঝলক চক্রবর্তী, সাবেক সভাপতি নোমান আহমেদ সিদ্দিকি, ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরীসহ আরো অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

কামরুল হাছান কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মনপাড়া থানাধীন পোমকাড়া গ্রামের মৃত মোঃ ইব্রাহিম মিয়ার বড় পুত্র। তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে এমএ ফাস্ট ক্লাস পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত কুমিল্লার বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। ২০০০ সালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোহাজেরাবাদ গ্রামের জনাজীর্ন অবস্থায় এবং অনুমতিহীন মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় ও বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০০ সালের পহেলা জানুয়ারি থেকে ৩ বছরের জন্য বিদ্যালয়টি প্রাথমিক অনুমোদন পায়। ২০০৩ সালে নবম শ্রেণির মানবিক ও ব্যবসায় শাখা এবং পরবর্তীতে বিজ্ঞান শাখা খোলার অনুমতি লাভ করে। ২০০৪ সালের পহেলা মে থেকে নি¤œ মাধ্যমিক এমপিভূক্তি লাভ করে বিদ্যালয়টি। ২০১০ সালে বিদ্যালয়টি পূর্ণ হাইস্কুল
রুপে এমপিভূক্তি হয় এবং ২০১১-২০১২ অর্থ বছরে নতুন ভবন নির্মান হয়।
কামরুল হাছান বর্তমানে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ এবং শিক্ষক ফোরাম শ্রীমঙ্গলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সম্মাননা ক্রেস্ট’র অনুভূতি জানতে চাইলে কামরুল হাছান জানান-৩৪ বছরের শিক্ষকতার জীবনে আরো একটি বড় প্রাপ্তি হলো আজকের এ অর্জন। মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে আমি ২০ বছর ধরে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। আজকের দিন আমার কাছে স্মরণীয় একটি দিন। আজ থেকে দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।

তিনি আরো জানান শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সাবেক চিপ হুইপ, আলহাজ্ব উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এমপি বিদ্যালয়ের এমপিওভূক্তিকরণ ও ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অবদান রাখেন। এছাড়া শ্রীমঙ্গল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, ৬ নং আশিদ্রোন ইউপি চেয়ারম্যান রনেন্দ্র প্রসাদ বর্ধন জহর বিদ্যালয়ের উন্নতি-অগ্রগতির লক্ষে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও অনুদান প্রদান করেন। বিদ্যালয়ের আজকের এই অবস্থা তৈরিতে ৬ নং আশিদ্রোন ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম মামুনুর রশিদ মামুন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছিলেন এবং তিনি ২১ বছর যাবত বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ছিলেন। পাহাড়ী জনপদ মোহাজেরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত হলে জেএসসি এবং এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল সন্তুষজনক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল হাছান এই বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই এলাকাবাসী, অভিজ্ঞ ম্যানেজিং কমিটি এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষকবৃন্দ আন্তরিকভাবে তাকে সহযোগিতা করছেন। সবার সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষা আন্দোলনে অপরিসীম ভূমিকা রাখছেন। তিনি তার সহকর্মী কাকিয়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নোমান আহমেদ সিদ্দিকিসহ সকল শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা জানান, কামরুল হাছান একজন আদর্শ শিক্ষক এবং মানুষ গড়ার অন্যতম কারিগর। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা জনাজীর্ণ বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সম্প্রসারণ, সৌন্দর্য বর্ধন, শিক্ষার মানোন্নয়ন’র মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সুনাম দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।