বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছয় মাসে ভালোবাসার কবর



নিউজ ডেস্ক:: মাত্র ছয় মাস আগে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে প্রতিবেশী প্রেমিক সুমনকে বিয়ে করেছিলেন তামান্না। কিন্তু বিয়ের পরই স্বপ্ন ভাঙে তার। যৌতুকলোভী স্বামীর নির্যাতনে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে তামান্নার। ছয় মাসে রচিত হয় ভালোবাসার কবর।

শুক্রবার সন্ধ্যায় সুমন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়ে যান। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের চাঁদহাট গ্রামে। খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই নগরকান্দা থানা পুলিশ তামান্নার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের চাঁদহাট গ্রামের মিলন মল্লিকের মেয়ে তামান্না (১৮) ছয় মাস আগে প্রেম করে প্রতিবেশী নুর ইসলাম মোল্যার ছেলে সুমনকে (২০) বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে নিজেদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। ঝগড়ার জের ধরে মাঝেমধ্যে তামান্নাকে মারধর করতেন স্বামী সুমন। সেই সঙ্গে স্ত্রীর কাছে যৌতুক দাবি করতেন। তামান্না যৌতুক দিতে অস্বীকার করলে মারধর করতেন স্বামী। এরই জের ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় তামান্নাকে হত্যা করে পালিয়ে যান সুমন ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তামান্নার বাবা মিলন মল্লিক বলেন, আমাদের অজান্তে বিয়ে করেছিল ওরা। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য মেয়েকে মারধর করত সুমন। আমি গরিব মানুষ, ভ্যানগাড়ি চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাই। যৌতুক দিতে না পারায় আমার মেয়েকে মেরে ফেলেছে ওরা।

নগরকান্দা থানা পুলিশের এসআই রবিউল ইসলাম বলেন, সংবাদ পেয়ে রাতেই ওই বাড়িতে যাই। বাড়ির উঠানের মধ্যে মেয়েটির মরদেহ পড়ে ছিল। তবে এ সময় মেয়েটির শ্বশুরবাড়ির কোনো সদস্যকে পাওয়া যায়নি। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) মিরাজ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মিলন মল্লিক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।