সোমবার, ২৬ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

হার্টের মধ্যে ব্লক নিয়েই নির্বাচনে ছুটে বেড়িয়েছেন কাদের



নিউজ ডেস্ক:: সামনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আল্লাহ ভরসা। আগে নির্বাচন শেষ হোক তারপর না হয় সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনে স্ট্যান্টিং, বাইপাস কিংবা ওপেন হার্ট সার্জারি করব।’ একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে হার্টে দুটি ব্লক ধরা পড়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকদের এসব কথা বলেছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিএসএমএমইউর একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, নির্বাচনের আগে মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন ওবায়দুল কাদের।তার হার্টে আগে থেকেই দুটি ব্লক ধরা পড়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি হেসে ভিন্ন এক উত্তর দিয়েছিলেন। ওই সময় চিকিৎসকরা তাকে জোরে বক্তৃতা না করা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও প্রাত্যহিক জীবনযাপন এবং খাবার গ্রহণে সাবধানতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু জাতীয় নির্বাচন শেষেও নতুন মন্ত্রিসভা গঠনসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকায় ওবায়দুল কাদের আর হাসপাতালমুখী হননি। তিনি নিয়মিত হাঁটলেও ডায়াবেটিস ছিল অনিয়ন্ত্রিত।

এমনকি তিনি যে মাইল্ড হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন কিংবা ব্লক ধরা পড়েছে সে তথ্যও মিডিয়া কিংবা অন্য কোথাও প্রকাশ করতে চিকিৎসকদের নিষেধ করেছিলেন কাদের।অপরদিকে এমন অবস্থায় আজ রবিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তির পর কাদেরের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়। হার্ট অ্যাটাকের পর এনজিওগ্রাম পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। একটিতে শতভাগ, একটি ৯৯ ভাগ ও একটিতে ৯০ ভাগ। চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে একটিতে রিং (স্ট্যান্টিং) পরান।

বিএসএমএমইউ-র কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আহসান আজ (৩ মার্চ) সকালে সাংবাদিকদের বলেন, “ওবায়দুল কাদেরে এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। এরইমধ্যে তার তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। একটি ওপেন করা হয়েছে।” সকালের চেয়ে কাদেরের শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “৭২ ঘণ্টা না গেলে এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।”

এর আগে রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে এনজিওগ্রাম শেষে ওবায়দুল কাদেরের হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

সেতুমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, সকালে ফজরের নামাজ শেষে হঠাৎ করেই শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা অনুভব করেন মন্ত্রী মহোদয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসকরা তার মেডিকেল চেকআপ করেন। চেকআপ শেষে তাকে দ্রুত এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। পরে এনজিওগ্রাম শেষে চিকিৎসকরা জানান তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে। তার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চেয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার পরিবার।