শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিএনপি- জামায়াতের ভোট’ই রাজনগরে বড় ফ্যাক্ট



মুবিন খান, মৌলভীবাজার: চা ও হাওরের রাজ্য মৌলভীবাজারের রাজনগরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত ভোটারদের নিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মাঝে শুরু হয়েছে টানাটানি। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রাজনগর উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থিত দুই জন প্রাথী ছিলেন বলে জানাযায়। দুই দলের দুই প্রার্থী থাকার পরও বিশাল ভোট আসে তাদের পক্ষ্যে।
জানাযায়, বিএনপি ও জামায়াতের ভোটাররা যে প্রার্থীরদিকেই সমর্থন দেবে, সেই চেয়ারম্যান হয়ে যাবে- এমন একটি ধারণা কাজ করছে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মাঝে। এজন্য বিএনপি সমর্থক ভোটারদের সমর্থন আদায়ের জন্য মাঠে নেমেছেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিগণ। সমর্থন আদায়ে বিভিন্ন কৌশলেরও আশ্রয় নিচ্ছেন তারা। ঘনিষ্টতা বাড়িয়েছেন বিএনপি নেতাদের সঙ্গে। রাতের আধারেই বিএনপি ও জামায়াত নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাত করছেন তারা। আবার অনেকেই জাতীয় নির্বাচনের সময় বিএনপি জামাতের নেতাদের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোও নিষ্পত্তির আশ্বাস দিচ্ছেন। তবে, বিএনপি নেতারা এখনো কাউকে আশ্বাস দেননি বলে জানালেন স্থানীয় নেতারা।

এবারের উপজেলা নির্বাচনে রাজনগর চেয়ারম্যান পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আছকির খান (নৌকা), সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগ সভাপতি আলহাজ্ব মিছবাহুদ্দোজা (আনারস), ’৯১ সালের উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহজাহান খান (কাপ-পিরিছ), উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা ছাতির মিয়া (দোয়াতকলম), এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. আব্দুল মতিন চৌধুরী (মোটরসাইকেল)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পরই শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। প্রাচরণার শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে আলোচনা- কে পাচ্ছেন এই উপজেলার বিএনপি জামাতের ভোট। বিএনপি-জামায়াতের ভোট ভাগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ নেতারাও মরিয়া। বিএনপি নেতাদের কাছে দফায় দফায় ধরনা দিচ্ছেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী আওয়ামীলীগ নেতারা। পর্দার আড়ালে দেনদরবার চলছে বলেও জানালেন অনেকে। মামলা থেকে নিষ্কৃতি প্রদানের আশ্বাস দিচ্ছেন কেউ কেউ।

এ ব্যাপারে রাজনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোনাঈম খান গেদন বলেন, আমাদের দল নির্বাচনে আসেনি। বিগত নির্বাচনেও আমাদের ভোটারদের তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাই আমাদের কোন প্রার্থী না থাকায় আমরা নির্বাচনী প্রচারণায়ও নেই। আমাদের ৫০% উপরে ভোটার ভোট কেন্দ্রে যাবে না। যারা প্রার্থী তারা সকলেই আওয়ামীলীগের। স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. আব্দুল মতিন চৌধুরী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। আমরা কয়েকদিনের মধ্যে ইউনিয়নের নেতাদের নিয়ে বসে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারি।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এড. আব্দুল মতিনের ভাই মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বলেন, রাজনগরে একমাত্র আমরাই স্বতন্ত্র প্রার্থী। অন্যরা আওয়ামী লীগের। আবার আমাদের প্রার্থী সাবেক অর্থ মন্ত্রী এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। তাই আমাদের প্রার্থীর দিকেই বিএনপির সমর্থন থাকবে। বিএনপির ভোটাররাও আমাদের আশ্বস্থ করছেন। এছাড়া আমারা ভাটি অঞ্চলের একমাত্র প্রতিনিধি। রাজনগরের ভাটি এলাকা মুন্সিবাজার, পাঁচগাঁও, ফতেহপুর ও উত্তরভাগ ইউনিয়নের লোকজন আমাদের দিকেই ঝুকছে। আমরা জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ আমাদের বিজয় হবে।

রাজনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ হাকিম বক্স সুন্দর বলেন, আমাদের দল যেহেতু নির্বাচনে নেই। সেহেতু আমরা মাঠে নেই। আমাদের সাথে আওয়ামীলীগের অনেকেই যোগাযোগ করছেন। সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন। আমরা কারো পক্ষে নেই। আমি কোন মামলায় আসামী নই। বিএনপির যে নেতারা আসামী তাদের সঙ্গে আওয়ামীলীগ নেতারা যোগাযোগ করে মামলা নিষ্পত্তির আশ্বাস দিচ্ছেন বলে শুনেছি।