রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জুড়ীর প্রবেশ পথের জলাবদ্ধতা যেন দেখার কেউ নেই



আব্দুর রব, বড়লেখা:: জুড়ী উপজেলা সদরের প্রবেশ পথের জলাবদ্ধতা যেন দেখার কেউ নেই। বছরের প্রায় ৬/৮ মাস হাঁটু জলের বেশি জল জমাটবদ্ধ হয়ে থাকে। ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী বেসরকারী কর্মকর্তা/কর্মচারীসহ নানা শ্রেণী পেশার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহালেও শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কের এ জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্টরা বড়ই উদাসীন বলে ভোক্তভোগীদের অভিযোগ।

সরেজমিনে জানা গেছে, অল্প বৃষ্টিতে জুড়ী পোষ্ট অফিস রোডের শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিগত কয়েক বছর থেকে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক জনসাধারণ সীমাহীন দূর্ভোগ নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করছেন। রাস্তাটি উচুকরণ কিংবা স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের নেই কোন মাথা ব্যাথা। জনগুরুত্বপূর্ণ ওই সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই বড়লেখা, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজার থেকে যাত্রী ও মালামালসহ যানবাহন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জুড়ী শহরে প্রবেশ করে। আবার যাত্রী ও মালামাল উঠানামা করিয়ে বিকল্প সড়ক না থাকায়, এ সড়ক দিয়ে যানবাহনগুলো বেরিয়ে যেতে হয়। এছাড়াও মক্তদির বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জুড়ী মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, তৈয়বুননেছা খানম একাডেমি সরকারি ডিগ্রী কলেজ, দক্ষিণ জাঙ্গিরাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বছরের অর্ধেক সময় জীবনে ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছেন। বছরের প্রায় ৬/৮ মাস কখনো হাঁটু পানি, আবার কখনও কমর পানিতে যানবাহন নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের।

গত বছর সংশ্লিষ্টরা ব্রীজের নিচের ওই রাস্তার পাশ দিয়ে (মেইন রাস্তার পাশ দিয়ে) হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য ১০/১২ ফুট স্থান ইট দিয়ে মেরামত ও ঝুলন্ত রেললাইন খুলে দিয়েছেন। এতে কোনোমতে সিএনজি, প্রাইভেট কার, পিকআপ ভ্যান যাতায়াত করলেও ঝুঁকি নিয়েই গর্তের পানির ওপর দিয়ে পারপার করতে হচ্ছে বড় যানবাহনগুলোকে। এতে যেকোনো সময়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্রিটিশ শাসনামলে কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেললাইন নির্মাণকালে জুড়ী শহরের প্রবেশ পথের উপর দিয়ে ঝুলন্ত রেল ব্রীজটি নির্মাণ করা হয়। রাস্তা থেকে ঝুলন্ত রেল ব্রীজের উঁচ্চতা আনুমানিক ১৫/১৬ ফুট উপরে স্থাপন করা হয়। আর ওই সড়ক ৩/৫ ফুট গভীর গর্তের মতো করা হয়। যাতে বড় যানগুলো চলাচলে বিঘœ না ঘটে। কিন্তু বৃষ্টি ও জুড়ী নদী ভরাট হওয়ায় ড্রেন দিয়ে পানি প্রবেশ করে রাস্তা ডুবে যায়। এতে বছরের অর্ধেকের চেয়ে বেশি সময় জুড়ী উপজেলাবাসীকে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয় ।