মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা রাজনগরের হাসনা বেগম




মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:: জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা নির্বাচিত হলেন রাজনগরের হাসনা বেগম। ‘নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরুর’ ক্যাটাগরিতে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হন। শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হাত থেকে তিনি স্বীকৃতি স্বরুপ ক্রেস সনদ ও নগদ পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের টেংরা গ্রামের মৃত কুয়াই মিয়ার মেয়ে হাছনা বেগমের বিয়ে হয়েছিল ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নূরপুর গ্রামের কাউছার আহমদের ছেলে ইংল্যান্ড প্রবাসী শাহাব উদ্দীনের সঙ্গে ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে। বিয়ের কারণে আর পরীক্ষা দিতে পারেন নি। বিয়ের দুই মাসের মাথায় ইংল্যান্ড প্রবাসী স্বামী চলে যান বিলেতে। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় সুখের স্বপ্নে ভাসতে থাকা হাসনার জীবনও। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে বিভিন্ন মালামাল দিলেও নতুন করে চাপ আসতে থাকে শ্বশুড়-শ্বাশুড়ী আর দেবরদের কাছ থেকে। কিছু দিনের মধ্যে এই চাপ রূপ নেয় শারীরিক নির্যাতনে। যৌতুকের আশায় বিভিন্ন সময় তাকে মারধর করা হতো।

এদিকে শ্বশুড় বাড়ির লোকজনের দাবি অনুযায়ী দুই তিনবারে যৌতুক হিসেবে সাড়ে ৩ লাখ টাকাও দেন। কিন্তু এরপরও থামেনি নির্যাতনের মাত্রা। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনা- হাছনা বেগমের বিয়েতে যৌতুক হিসেবে দেয়া কাঠের ফার্নিচার গুলোও বিক্রি করে দেন শ্বশুড়। তিনি এর প্রতিবাদ করেন। এতেই তার ওপর শুরু হয় লোমহর্ষক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে একসময় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকে ফেলে দেয়া হয় বাড়ির পিছনের হাওরে। হাওরে মাছ ধরতে থাকা এক জেলে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যান হাসপাতালে। জ্ঞান ফিরলে সবাইকে তার নির্যাতনের কাহিনী শোনান। সেখান থেকেই চলে আসেন বাবার বাড়ি। শুরু করেন নতুন করে জীবন গড়া। আবারো বই-খাতা কিনে প্রস্তুতি নিতে থাকেন এইচএসসি পরীক্ষার। সেই সঙ্গে শ্বশুড় বাড়ির লোকজনদের আসামী করে মামলাও করেন।

এসইচএসসি শেষ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিনে স্নাতক শেষ করেন। পরে এমসি কলেজ থেকে মাষ্টার্স করেন। হাছনা বেগম বর্তমানে টেংরা শহীদ সুদর্শন উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজী বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন।

শনিবার দুপুরে ‘নির্যাতনের বিভিষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যোমে জীবন শুরুর’ ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারী নারী হিসেবে হাসনা বেগম জাতীয় পর্যায়ে পুরষ্কৃত হন। প্রধান মন্ত্রীর হাত থেকে সম্মাননা স্মারক ও নগদ পুষ্কার গ্রহণ করেন।

হাসনা বেগম বলেন, এখন নিজেকে ধন্য মনে করছি। জীবনে কিছু হতে হলে উদ্যম হারাতে নেই। লক্ষ্যপানে এগিয়ে যেতেই হয়।