বুধবার, ২১ অগাস্ট ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেটের গায়েবি মসজিদ নিয়ে গবেষণা শাবিপ্রবি অধ্যাপক শুভজিতের



ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: সিলেটের ওসমানিনগর উপজেলার উসমানপুর গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন গায়েবি মসজিদ।এলাকার মানুষ জানান মসজিদটি সুলতানী আমলেরও আগে নির্মিত।এ মসজিদ নিয়ে একটি গবেষণা পেপার তৈরি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শুভজিত চৌধুরী।

মসজিদটির নির্মাতা ও নির্মাণ কাজ নিয়ে সঠিক তথ্য জানা না গেলেও তার গবেষণা পেপারে উঠে এসেছে, মসজিদটি ১৫০০ থেকে ১৬০০ শতকে নির্মিত।মসজিদটির অবস্থান বালাগঞ্জ ওসমানীনগর সংযোগ সড়কের পাশে।

বালাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার। দিল্লিতে সুলতান ফিরোজ শাহর শাসনামলে তার কমান্ডার সিকান্দার খান গাজী হজরত শাহজালাল (রহ.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার প্রচেষ্টায় সিলেট অঞ্চল জয় করেন।

সিলেটের শাসক গৌরগোবিন্দকে পরাজিত করার পর হজরতশাহজালাল (রহ.) সিলেট নগরীর দরগাহ এলাকায় বসতি স্থাপন করেন।পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় ইসলাম প্রচারেমনোনিবেশ করেন।

সে সময় হজরত শাহজালালের (রহ.) কয়েকজন অনুসারী টিলা খুঁড়ে একটি মসজিদ নির্মাণের পদক্ষেপ নেন।টিলার নিচে একটি স্থায়ী কাঠামোর সন্ধান মেলে।সেই কাঠামোর সব কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশেষকরে কাঠামোটির প্রবেশ দ্বার পূর্বমুখী হওয়ায় ধারণা করা হয় যে, এটা আসলে
একটি মসজিদ।

এর নামকরণ হয় গায়েবি মসজিদ।মসজিদটির আকর্ষণ হচ্ছে বিশেষ ডিজাইনে তৈরি একটি গম্বুজ এবং চারকোণায় চারটি মিনারসদৃশ বুরুজ।গম্বুজটি ছাদ থেকে ১০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এবং এর রয়েছে ২ ফুট লম্বা একটি চূড়া। ভূমি থেকে প্রতিটি বুরুজের উচ্চতা ১৭ ফুট। সুলতানী আমলেও মিনারের মতো দেখতে এ ধরনের বুরুজের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ করা গেছে বলে নৃতত্ত্ববিদদের অভিমত।

মসজিদটিতে একত্রে ৫৩ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।এর বাইরে নির্মিত টিনশেডসহ মসজিদে এখন ৩০০ মুসল্লির স্থান সংকুলান হয়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের সহকারী অধ্যাপক শুভজিত চৌধুরী তার গবেষনায় লিখেন, মসজিদটি ৬০০ থেকে ৭০০ বছরের পুরনো।সব ধরনের ডকুমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মসজিদটি সুলতানী আমলের।প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন এ মসজিদটি সংরক্ষণ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।