শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

আ. লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদার প্রশংসায় রিজভী



নিউজ ডেস্ক:: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনায় সরব থাকলেও এবার দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাজেদা চৌধুরীর প্রশংসা করলেন।

সোমবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী বলেন, ‘তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, খালেদাকে সানগ্লাস পরা দেখলে মনে হয় না তিনি অসুস্থ। এ বিষয়ে আমার বলার কিছু নেই। আমি প্রেসিডিয়াম সদস্য মিসেস সাজেদা চৌধুরীর প্রজ্ঞা ও জাজমেন্টের প্রশংসা করি এ জন্য যে, তার দলেরই একজন নেতা ও মন্ত্রী সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন বিশ্বের সেরা বেয়াদব। এমন কোনো কি ব্যক্তি আছেন? যাদের চোখে অপারেশন হওয়ার পর সানগ্লাস পরেন না। চোখের ক্ষত না সারা পর্যন্ত রোদ, ধূলা ও পানি থেকে চোখকে নিরাপদ রাখার জন্যইতো সানগ্লাস ব্যবহার করে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক ব্যক্তি যখন ব্যক্তিত্বহীন হয়ে পড়েন, বেআইনি পন্থায় দখলকৃত ক্ষমতার অংশীদার হতে প্রধান নেতার মোসাহেবি করার কুৎসিত প্রতিয়োগিতায় নেমে দেশের বিরোধী রাজনীতির সম্মানীত নেতাদের সম্পর্কে অভদ্র ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিতেও কার্পণ্য করে না। এসব ব্যক্তি যতই ক্ষমতাশালী মন্ত্রী হোক না কেন তাদের সাংস্কৃতিক মান অত্যন্ত নিচুমানের।

তারা সুরুচিপূর্ণ ও সুসংস্কৃত পরিবেশে গড়ে ওঠেননি। তথ্যমন্ত্রীর কথাবার্তা শুনলে মনে হয় মন্ত্রিত্ব রক্ষার গ্যারান্টির জন্যই আগের তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর চেয়ে এক ধাপ উপরে থাকতে চাচ্ছেন। সেজন্যই জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দিনরাত অশ্রাব্য অশোভন মন্তব্য করতে দ্বিধা করছেন না। কারণ, জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অশোভন বক্তব্য বিবৃতির প্রতিযোগিতায় যে চ্যাম্পিয়ন হয় তাকেই সরকারপ্রধান ক্ষমতার ভাগ দিতে মন্ত্রিসভায় রাখেন।’

‘আওয়ামী লীগের আরেকজন নেতা বলেছেন, খালেদা জিয়া সুস্থতা বোধ করায় হাসপাতালে যেতে চাচ্ছেন না’,- উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘দেশে সহিষ্ণুতার পরিবেশকে কালিমালিপ্ত করে বিদ্বেষ ও বিভাজন ছড়াচ্ছেন আওয়ামী নেতারা। বেগম খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতা নিয়ে মশকরা করতেই মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

বাংলাদেশ নামক দেশটি আদিম শিকারিদের মতো চালিত হচ্ছে। বিরোধী দলকে বেয়নেট, কার্তুজ, লাঠি পেটা, বোমাগুলি বারুদের দম বন্ধ করা ধোঁয়ার কুণ্ডলির মধ্যে ঢেকে রাখার সব পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। দেশনেত্রীর প্রতি সরকারপ্রধানের বিদ্বেষ পোষণের কারণেই সরকার তাকে বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ দিচ্ছে না।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বারবার পরিবারের ও দলের পক্ষ থেকে কারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরও তাদের নির্দয় মনোবৃত্তির কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা জোর করে তাকে পিজি (বিএসএমএমইউ) পাঠাতে চায়। পিজিতে কয়েকমাস আগে বেগম খালেদা জিয়াকে ভর্তি করার পর তাকে চিকিৎসা না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার রোগ নির্ণয়ের জন্য তেমন কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়নি। যাও দু-একটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল তাও আবার জুনিয়র ও অদক্ষ টেকনিশিয়ান দ্বারা করানো হয়েছে। তাকে চিকিৎসা দিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত মানা হয়নি।’

রিজভী বলেন, ‘যে পিজি হাসপাতালে অন্য হাসপাতাল থেকে ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতি ধার করে আনতে হয়, সেখানে কীভাবে সুচিকিৎসা সম্ভব। আওয়ামী নেতাদের চিকিৎসা সেখানে সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আনার পরও আওয়ামী নেতাদের বিদেশে পাঠাতে হয় চিকিৎসার জন্য। সেটিও আবার রাষ্ট্রীয় খরচে। অথচ বেগম জিয়ার নিজ দেশে নিজ খরচে বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর সুযোগ নেই। শুধু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মিডনাইট ভোটের সরকারপ্রধানের প্রতিহিংসার তুষের আগুন ধিকিধিকি জ্বলার কারণেই তিনি কারান্তরালে এবং তাকে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।’