রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দরগাহ মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি জাকারিয়ার জানাযায় লাখো মানুষের ঢল



নিউজ ডেস্ক:: জামেয়া ক্বাসিমুল উলূম দরগাহ হযরত শাহজালাল (রহ.) সিলেটের মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস প্রবীণ মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়ার নামাজের জানাজায় ধর্মপ্রাণ মুসল্লীর ঢল নামে। মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিলেট সরকারি আলীয়া মাদ্রাসা ময়দানে তার নামাজের জানাযায় লাখো মুসল্লী অংশগ্রহণ করেন। শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর চোখের জলে শেষ বিদায় জানান শায়খুল হাদীস প্রবীণ মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়াকে।

জানাজায় ইমামতি করেন দরগাহ মাদ্রাসার নবনির্বাচিত মুহতামিম ও শায়খুল হাদীস মুফতি মুহিবুল হক গাছবাড়ি। জানাজা শেষে প্রবীণ এই আলেমকে সিলেট দরগাহ মাদ্রাসার হিফজখানার বোর্ডিংয়ের সামনে শায়িত করা হয়েছে।

মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়ার নামাজের জানাযায় অংশ নিতে আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। জানাজায় দরগাহ মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, সিলেটের আলেম সমাজ, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের উপস্থিতিতে লোকারণ্য হয়ে উঠে। এসময় মাদ্রাসা মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে যান। আলীয়া মাদ্রাসা মাঠ থেকে চৌহাট্টা পয়েন্ট পর্যন্ত মুসল্লীরা অবস্থান নেন।

এদিকে, অনেক মুসল্লী যানজট আর ভীড়ের কারণে জানাজায় অংশ নিতে না পারায় আফসোস করতে থাকেন। মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়ার জানাজার পূর্বে বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষক, আলেম, রাজনীতিক ও মরহুমের স্বজনসহ অনেকেই সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটের সময় মাদ্রাসায় আসরের নামাজের অজু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মুফতি আবুল কালাম জাকারিয়া। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে সাথে সাথে তাকে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুতালে তার বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মূল বাড়ি সুনামঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভাগুয়া গ্রামে। বর্তমানে তিনি দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার গাজীনগর গ্রামে বসবাস করছিলেন।

মুফতি আবুল কালাম যাকারিয়া ১৯৫৬ সালের ১৫ই মার্চ জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ভাগুয়া গ্রামে। তিনি খলিফায়ে মাদানী শায়খ আব্দুল হক গাজীনগরী (রহ.) এর জামাতা ও আল্লামা মাহমুদুল হাসানের অন্যতম খলিফা।