সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১১ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুরমাতীরে ‘নদীবন্ধু, নদীসংগ্রামী’ স্মরণ-অনুষ্ঠান



ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: অকালপ্রয়াত সিলেটের যুবসংগঠক মইনুদ্দিন আহমদ জালালকে বিশ্বব্যাপী নদীঅধিকার আদায়ের একজন আজীবন সংগ্রামী বলে অভিহিত করেছেন নদী অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অঙ্গীকার বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মুহম্মদ হিলালউদ্দিন (হিলাল ফয়েজী)।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে জালাল স্মরণে শুক্রবার সকালে সিলেটে সুরমাতীরে ‘নদীবন্ধু, নদীসংগ্রামী’ স্মরণ অনুষ্ঠানের স্মারক বক্তৃতায় হিলালউদ্দিন বলেছেন, যে নদীকে আমরা দখল, দুষণ আর অবিবেচক নির্মাণের শিকার হতে দেখি, এই নদীকে বাঁচাতে আজীবন জানপ্রাণ লড়েছেন মইনুদ্দিন আহমদ জালাল। তাঁর নদীসংগ্রাম শুধু সুরমা-কুশিয়ারা-মেঘনার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। পৃথিবীর যে সকল দেশে তিনি গিয়েছেন, সব নদী প্রান্তরে তিনি গেয়েছিলেন, সেখানে দাঁড়িয়ে নদীঅন্তঃপ্রাণ মনোভাবের প্রকাশ
ঘটিয়েছেন। তাই নদীর মধ্যেই তাঁর দীপ্ত উপস্থিতি, তিনি নদীসংগ্রামী।’

মইনুদ্দিন আহমদ জালাল জীবদ্দশায় অঙ্গীকার বাংলাদেশের পরিচালকমন্ডলির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি বছর নদীকৃত্য দিবসে তাঁর নেতৃত্বে সিলেটে সুরমা নদীতীরে নদীঅধিকার নিয়ে নানা কর্মসূচি পালন হতো। গত বছরের ১৮ অক্টোবর ভারতে শিলংয়ে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।অঙ্গীকার বাংলাদেশ এবার সিলেটে তাঁকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে উদযাপন করে উদযাপন করে আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুহম্মদ হিলালউদ্দিনের স্মারক বক্তৃতার পর সিলেটের সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নগরনাট’ কবিতা ও গানে নদীসংগ্রামের চেতনা ছড়িয়ে দেয়। দেবপ্রিয়া পালের সঞ্চালনায় সাংস্কৃতিক পরিবশনায় অংশ নেন নগরনাটের অরূপ বাউল, উজ্জ্বল চক্রবর্তী, মজুমদার অপু, শ্যামলী দাশ, রূপালী দাশ, সোনিয়া সুভদ্রা, অচ্যুত চক্রবর্তী।

সুরমা নদী তীরে উন্মুক্তভাবে প্রায় এক ঘন্টা চলা এ অনুষ্ঠানে একাত্ম হয়েছিলেন সিলেটের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি শুভেন্দু ইমাম, অধ্যাপক সামসুল আলম, সিলেটের সৃজনশীল বইয়ের দোকান ‘বইপত্র’ সত্ত্বাধিকারী সেলিমা সুলতানা, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আশরাফউজ্জামান, সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যাপক আঞ্জুমান আরা বেগম, যুব ইউনিয়ন যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক সভাপতি আ ক ম হোসেন চন্নু, সিপিবি সিলেটের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সুমন, নাগরিক মৈত্রীর আহবায়ক সমর বিজয় সী শেখর, যুব ইউনিয়ন সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক খায়রল হাছান, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতানা রোকেয়াসহ প্রমুখ।
শেষ পর্বে সিলেটের প্রবীণ বাম রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রী পাটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ আরশ আলী ও মইনুদ্দিন আহমদ জালালের স্ত্রী অধ্যাপক নাজিয়া চৌধুরী বক্তব্য দেন। তাঁদের কথায় মইনুদ্দিন আহমদ জালালকে নদীর মতো চিরঞ্জীব করে রাখার প্রত্যয়ের মধ্যে দিয়ে শেষ হয় ‘নদীবন্ধু, নদীসংগ্রামী’ শীর্ষক স্মরণ-অনুষ্ঠান।