সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডে বর্বরোচিত ঘটনা নিন্দনীয় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে যে হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তিনি বলেন, ‘এ বর্বরোচিত ঘটনা নিন্দনীয় এবং বিশ্ববাসী এ ঘটনা প্রত্যাশা করে না।’

শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আয়োজিত রক্তদাতা সম্মাননা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় সন্ত্রাসী হামলায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

ভয়াবহ এ হামলার ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়েরা। এ হামলার পর নিউজিল্যান্ড ও বাংলাদেশের মধ্যেকার তৃতীয় ও শেষ টেস্ট বাতিল করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দল আমাদের দেশে আসার আগে আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা কথা বলেছিল। আমরা তাদের বলেছিলাম তারা পূর্ণ নিরাপদে থাকবে যেমনভাবে আমাদের ভিআইপিরা থাকেন, সেভাবেই থাকবেন। আমরা সেটা করেছি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড কেন সেটা করেনি, তা জানি না।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেখানে কারা কারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা আমরা জানি এবং আমরা আরও জানার চেষ্টা করছি। আমাদের ক্রিকেট টিম সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা চলে আসবে।’

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছায় রক্তদান সম্পর্কে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে প্রয়োজন রক্তদাতাদের মতো ত্যাগী মানুষ; যারা কোনো কিছু প্রত্যাশা ছাড়াই নিঃস্বার্থভাবে রক্তদান করে যাচ্ছেন।’

কোয়ান্টাম গত ১৮ বছরে দশ লক্ষাধিক ইউনিট রক্ত সরবরাহ করেছে। গত বছর সরবরাহ করেছে এক লক্ষাধিক ইউনিট রক্ত; যা দেশের মোট চাহিদার সাত ভাগের এক ভাগ।

রক্তদানের মতো এমন মহৎ উদ্যোগের জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম নিয়ে যে কয়টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে তার মধ্যে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে।’

রক্তদাতাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘২৫ বা ৫০ বার রক্তদান করেই থেমে থাকবেন না। সুস্থতা সাপেক্ষে ৬০ বছর পর্যন্ত আপনারা রক্তদান করে যাবেন এবং মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষায় ভূমিকা রেখে যাবেন।’

অনুষ্ঠানে কমপক্ষে ১০, ২৫ ও ৫০ বার স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন এমন ১৭৩ জন রক্তদাতাকে সনদপত্র, আইডি কার্ড, সম্মাননা ক্রেস্ট ও মেডেল প্রদান করা হয়। এর মধ্যে স্বেচ্ছা রক্তদাতা তারেক কুদ্দুস এবং নিয়মিত রক্তগ্রহীতা থ্যালাসেমিয়া রোগী সুমাইয়া আক্তার সুমি তাদের অনুভূতি বর্ণনা করেন।

স্বাগত বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যালিয়েটিভ মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. নিজামউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের দেশে ৩০-৩৫ শতাংশ রক্ত আসে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের কাছ থেকে, ৫৫-৬০ শতাংশ আসে রোগীর আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবদের কাছ থেকে এবং বাকি রক্ত আসে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের কাছ থেকে; যা দুরারোগ্য ব্যাধির জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।’

রক্তদানের মতো এমন একটি মহৎ মানবকল্যাণে জড়িত রক্তদাতা ও অতিথিদের আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক মাদাম নাহার আল বোখারী।

২০০০ সালে ব্লাড ব্যাংক প্রতিষ্ঠার পর এ পর্যন্ত ১০ লাখ ৫৯ হাজার তিন ইউনিট রক্ত ও রক্ত উপাদান সরবরাহ করেছে কোয়ান্টাম। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিয়মিত স্বেচ্ছা রক্তদাতারা দুরারোগ্য রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্ত থাকেন। তাদের হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও অনেক কম।