শনিবার, ২৩ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নিউজিল্যান্ডে হামলার পর ব্রিটেনের মসজিদে নিরাপত্তা বৃদ্ধি



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: নিউজিল্যান্ডের মসজিদে বন্দুকধারীর ভয়াবহ হামলার পর ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ব্রিটেনের মসজিদগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা দেয় পুলিশ। ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ, মেয়র, এমপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন মসজিদ পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার লন্ডনের বাঙালি অধ্যুষিত এলাকা হোয়াইটচ্যাপেলে অবস্থিত ইস্ট লন্ডন মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। নামাজ শেষে ইস্ট লন্ডন মসজিদের সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মেয়র।

ইস্ট লন্ডনের মসজিদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ও ডিরেক্টর দেলোয়ার খানের পরিচালনায় সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ মাহমুদ।

বেথনালগ্রী অ্যান্ড বো আসনের এমপি রুশনারা আলী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি এ জন্য বর্ণবাদী দল বিকাশের বিরুদ্ধে লড়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এ দেশে প্রতিনিয়ত মুসলিম সম্প্রদায় বর্ণবাদীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে।

কোনো ধরনের বর্ণবাদী আক্রমণ, বর্ণবিদ্বেষের শিকার হলে পুলিশে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান রুশনারা আলী।

তিনি বলেন, আমরা রাজনৈতিকভাবে ও কমিউনিটি পর্যায়ে, স্যোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে এ বর্ণবিদ্বেষের শিকার হচ্ছি। এটি বন্ধ করতে হবে, সবাইকে সচেতন হতে হবে।

এ সময় টাওয়ার হ্যামলেটস পুলিশের কমান্ডার সো উইলিয়াম বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় বিশেষ করে মসজিদগুলোতে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। তিনি কোনো ধরনের হেইট ক্রাইম হলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে রিপোর্ট করার আহ্বান জানান।

Mosque

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জনবিগস বলেন, আমি এখানে সহর্মমিতা প্রকাশ করতে এসেছি। টাওয়ার হ্যামলেটসে বহু ধর্ম-বর্ণের লোকের বসবাস। এখানে বর্ণবাদের কোনো স্থান হবে না।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশপ অব লন্ডন সারাহ মুলালি, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেনের সেক্রেটারি জেনারেল। আলোচনা সভা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা শেখ আব্দুল কাইয়ুম।

পরে মসজিদের বাইরে এসে লন্ডনের মেয়র সাদিক খান গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় তার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, আমরা নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টাচার্চ থেকে ১ হাজার ১০০ মাইল দূরে থাকলেও হৃদয়ে তাদের অনুভূতি অনুভব করছি এবং সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করছি। সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং নিহতদের পরিবারবর্গের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।

তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে বলেন। তিনি বলেন, আগামী কয়েকটি দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বৃদ্ধি করা হবে।

মেয়র বলেন, আমরা ক্রাইস্টাচার্চের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা দেখাচ্ছি। আমরা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চাই লন্ডনে আমরা খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলিম, বৌদ্ধ, হিন্দু, শিখ এবং ধর্মে অবিশ্বাসীরাও একতাবদ্ধ। এখানে যে কাউকে স্বাগত জানাই। লন্ডন সবার জন্য উন্মুক্ত।