বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আশ্বাসের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে শিক্ষার্থীরা



জীবন পাল:: আশ্বাসের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ কারণে আন্দোলনে প্রশাসনের আশ্বাসের উপর আর ভরসা করতে নারাজ । এখন তারা সকলেই আশ্বাসের বাস্তবায়ন চাই। বাসের চাপায় সিকৃবির ছাত্র হত্যার ঘটনায় হত্যার বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে এরকমটাই আভাস দিয়েছে।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঘোরি মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বাস থেকে ফেলে হত্যার ঘটনায় রবিবার দুপুর ১২টা থেকে সিলেটের চৌহাট্টা পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এসময় হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

ঘন্টাব্যাপি রাস্তা অবরোধ করে রাখায় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ। সেই সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করেন। একই সাথে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডুও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়া অনুরোধ জানাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই তাদের স্লোগান পরিবর্তন করে ফেলেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলত শিক্ষার্থীদেরকে স্লোগানে স্লোগানে বলতে শোনা যায় – আশ্বাসের বিশ্বাস,করিনা করিনা, আর নয় আশ্বাস,হারিয়ে গেছে বিশ্বাস ।

এসময় শিক্ষার্থীদের সকল দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস প্রকাশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ বলেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনে প্রশাসন একাত্বতা প্রকাশ করেছে। ঘাতক চালক ও হেলপারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাদেরকে সবোর্চ্চ শাস্তিই প্রদান করা হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মৃত্যুঞ্জয় কুন্ডু বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের হারিয়েছি। এটি অত্যন্ত একটি কষ্টদায়ক। প্রশাসন আমাদেরকে আশ্বস্থ্য করেছেন যে ঘাতকদের সবোর্চ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। যদি ৭-১০ দিনের মধ্যে আমাদের দাবি মানা না হয় তাহলে আমরা আবার আন্দোলনে নামবো।

তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, আমরা শিক্ষার্থীকে হারিয়েছি। তাই আমরা চাই না এই রোদে কষ্ট করে আন্দোলন করে আমাদের আর কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ুক। আমাদের শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্নভাবে আন্দোলন করেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আন্দোলন শেষ করে শিক্ষার্থীদের কাম্পাসে ফিরিয়ে নিতেই আমরা তাদের অভিভাবক হয়ে সাথে এসেছি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ক্লাস-পরীক্ষা হয়নি। বাসের চালক ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। আশা করছি আইন অনুযায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে।”

তবে আগামীকাল (সোমবার) থেকে ক্লাস-পরীক্ষা স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে চালক ও হেলপার গ্রেফতারের পরেও আন্দোলনের কারণ জানতে চাইলে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, এরকম আশ্বাস আমরা অতীতেও শুনেছি। এটা আমাদের দেশের নিয়মিত একটি নিয়ম। আমরা আর আশ্বাসের উপর ভরসা করতে রাজি না। আমরা আশ্বাসের বাস্তবতা দেখতে যাচ্ছি। তা না হলে আমাদের এ আন্দোলন চলবেই।

অন্যদিকে রোববার সকালে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন ওয়াসিমের সহপাঠিরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। পরে পাঁচ দফা দাবিতে দুপুর ১২টায় সিলেটের চৌহাট্টায় বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, উদার পরিবহনের রুট পারমিট ও লাইসেন্স বাতিল করা, বাস চালক ও হেলপারের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর করা, লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলতে না দেওয়া, অদক্ষ চালকের হাতে সড়কে গাড়ি দেওয়া বন্ধ করা এবং সড়কে শিক্ষার্থী ও সকল মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এর আগে শনিবার বিকালে সিলেটের শেরপুরে বাস ভাড়া নিয়ে হেলপারের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ঘোরি মোহাম্মদ ওয়াসিমকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে পথে তার মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর বাসটির চালক ও তার সহকারীকে আটক করেছে পুলিশ।

ওয়াসিমের মৃত্যুর খবরে হাসপাতালে ছুটে যান কয়েকশ শিক্ষার্থী। এসময় তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন। পরে কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে বিক্ষোভ ও ভাংচুর করেন শিক্ষার্থীরা।