বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কারাগারে মন্ত্রী হওয়ার গল্প করে দিন কাটে হিরো আলমের



ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগে গ্রেফতার আলোচিত অভিনেতা কাম রাজনীতিবিদ হিরো আলম এখন কারাবন্দী। কারাগারে গল্প করে, শুয়ে বসে সময় কাটছে তার। কারাগারে অন্য বন্দিদের সঙ্গে তার আলাপের অধিকাংশ সময়জুড়ে থাকে মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নের কথা।হিরো আলমের মনোবাসনা হচ্ছে- আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে এমপি হবেন। এরপর টেকনোক্রেট কোটায় তাকে মন্ত্রী করা হবে।

বগুড়া কারাগারের জেলার রফিকুল ইসলাম জানান, গত ১৭ দিন ধরে বগুড়া কারাগারে রয়েছেন হিরো আলম। বগুড়া কারাগার সূত্রে জানা গেছে, জেলের সেলে হিরো আলমের দিন কাটে শুয়ে-বসে; আলস্যে। সুযোগ পেলেই তিনি অন্য বন্দিদের সঙ্গে গালগল্পে মেতে উঠেন।সবাই তাকে নিয়ে মজা করে। তিনিও মজা পান। তিনি সুযোগ পেলেই স্বপ্নের কথা বলে বেড়ান বন্দীদের সঙ্গে। হিরো আলম জানান, এখনও স্বপ্ন দেখেন, চলচ্চিত্র নির্মাণ ও একদিন মন্ত্রী হওয়ার।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর কী করবেন–এ নিয়েও অন্যদের সঙ্গে কথা বলেন হিরো আলম। হিরো আলম জানিয়েছেন, জেল থেকে বেরিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণে মনোযোগী হবেন তিনি।

জেলার জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে হিরো আলমকে অধুমপায়ী সেলে রাখা হয়েছে। তার সঙ্গে আরও ৩-৪ জন হাজতি রয়েছেন। গত ১৬ দিনের মধ্যে শুধু একদিন তার পরিবারের সদস্যেরা তাকে দেখতে এসেছিলেন। তবে তার স্ত্রী বা কোনও ভক্ত আসেননি।

গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বগুড়া-৪ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়ে তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ পেয়েছেন। সেজন্য আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হবেন। তার বিশ্বাস, ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হবেন। তার জনপ্রিয়তা ও যোগ্যতার দিকটা বিবেচনায় নিয়ে তাকে মন্ত্রী করা হবে। আর মন্ত্রী হলে নিজ এলাকা তথা বগুড়ার উন্নয়নে কাজ করবেন।

স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে হিরো আলমকে ১৭ দিন আগে গ্রেফতার করে পুলিশ। হিরো আলমের শ্বশুর সাইফুল ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি জানান, হিরো আলম তার স্ত্রী সাদিয়া বেগম সুমিকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে বলে তার শ্বশুর থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই পক্ষকে থানায় ডাকা হয়। প্রথমে মীমাংসা করার চেষ্টা করা হলেও তা করা সম্ভব হয়নি। পরে হিরো আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

হিরো আলমের স্ত্রীর অভিযোগ, মাঝেমধ্যেই হিরো আলম তাকে মারধর করে। দুদিন আগে সে ঢাকা থেকে আসে। রাতে খাবারের পর মোবাইলে এক মেয়ের সঙ্গে কথা বলছিল। আমি নিষেধ করলে বলে আমি ১০টা মেয়ে নিয়ে ঘুরব, যা ইচ্ছে তাই করব।

আমি ঢাকায় বিয়ে করেছি। এভাবে থাকতে পারলে থাকো না হলে চলে যাও। এর এক পর্যায়ে আলম আমার গলা চেপে ধরে, শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারপিট করে জখম করে। এখন আমার ৩ ছেলে মেয়ে নিয়ে কোথায় যাবো?