বুধবার, ২২ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

লন্ডনে আলোর সমাবেশের মাধ্যমে গণহত্যা দিবস পালন



প্রবাস ডেস্ক ::
জাতীয় গণহত্যা দিবসে লন্ডনে আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেছেন, ‘মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবসকে আন্তর্যাতিক স্বীকৃতির বিশ্ব সম্প্রদায়ের এগিয়ে আসা উচিত।’ তাদের মতে, যে ঘটনাগুলো মানব সভ্যতার কলঙ্কতীলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে সেগুলোর অন্যতম ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর গণহত্যা। এটি ইতিহাসের নৃশংসতম কালো অধ্যায়।

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সোমবার ২৫ মার্চ স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে যুক্তরাজ্য একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত ‘শুধিতে হবে জন্মের ঋণ, চলে এসো আলোর মিছিলে’ শীর্ষক এই প্রদীপ প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে বিলেতের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির সভাপতি সাবেক কাউন্সিলার নুরুদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক এনামুল হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই ‘আলো’র সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত এডভোকেট আয়েশা পপি, মুক্তিযোদ্দা লোকমান হোসেন, শ্রীরামসির আঙ্গুর আলী, নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি মতিয়ার চৌধুরী, সহসভাপতি আঞ্জুমানআরা অঞ্জু,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদিকা পুস্পিতা গুপ্ত, যুক্তরাজ্য উদীচীর হারুনুর রশীদ, , যুদ্ধাপরাধ মঞ্চের ড. আনিসুর রহমান আনিস, বার্কিং ও ডেগেনহাম কাউন্সিলার মইন কাদরী, গণজাগরণ মঞ্চের অজন্তা দেব রায় কবি নজরুল ইসলাম, সন্জিত দাশ ও আব্দুল রকিব প্রমূখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল আলম এমপি বলেন, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই একাত্তরের ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া উচিত। তিনি বলেন, সমাজ, রাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করে জনগনের সম্মিলিত শক্তি।জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও নিশ্চয়ই সেই জনমত’র বাইরে নয়। আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি দাবীতে প্রয়োজনে বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বে বসবাসরত বাঙালিদের গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচী আয়োজনের প্রস্তাবনা রাখেন।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে নির্মূল কমিটির যুক্তরাজ্য সভাপতি নুরউদ্দিন আহমেদ বলেন, একাত্তরের শহীদদের স্মরণে প্রজ্বলিত আজকের এই আলো সাময়িক নিভিয়ে ফেললেও আলোর এই মিছিল নিয়েই আমরা ভেদ করতে চাই সমাজের সব অন্ধকার রাস্তাগুলো। আলো হাতে অন্ধকার অতিক্রম করার এই প্রেরণা একাত্তরের যে শহীদরা আমাদের দিয়ে গেছেন, আজকের এই দিনে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করছি তাদের। তিনি বলেন, ২৫ মার্চ ছিলো কালোরাত। কিন্তু একাত্তরের পর থেকে প্রতি বছর আমরা এ রাতটিকে আলোয় ভরিয়ে দিয়ে ঘাতক ও তাদের উত্তরসূরীদের বলতে চেয়েছি অন্ধকার সাময়িক। অন্ধকারের পক্ষের এই শক্তিও মানবিক শক্তির তুলনায় খুবই নগন্য।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ মিনারে শদীদদের স্মরণে পুষ্পদান, এক মিনিট নীরবতা পালন ও প্রজ্জ্বলিত প্রদীপ হাতে দেশাত্ববোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সমবেতরা।