মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিলেটে স্বামীর প্রতারণামূলকভাবে দিত্বীয় বিয়ে ঠেকাতে লন্ডনী বধূর আবেদন



ডেইলি সিলেট ডেস্ক:: লন্ডনী বধূর অনুমতি না নিয়ে প্রতারণা মূলকভাবে দিত্বীয় বিয়ের আয়োজন। সেই বিয়ে ঠেকাতে ব্রিটিশ নাগরিক জান্নাতুল ফেরদৌসের পক্ষে শনিবার (১৩ এপ্রিল) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন তার মামা নগরীর জালালাবাদ থানার পশ্চিম সুবিদবাজার লন্ডনী রোডের অগ্রণী আবাসিক এলাকার মৃত মো. আব্দুল খালিকের ছেলে আবুল হাসনাত। এর আগে ঐ লন্ডনী বধু ৯ এপ্রিল লন্ডনস্থ বাংলাদেশের হোম অফিস ও ঢাকাস্থ হাই কমিশনে দুইটি আবেদন করেন।

তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন, তার ভাগনির স্বামী হলেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জের দরগাপাশা গ্রামের সৈয়দ আনহার আলীর ছেলে সৈয়দ আলী জাবেদ। তিনি বর্তমানে নগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানার আল ইসলাহ ৫৬/১০ নম্বর বাসার বাসিন্দা। ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর জাবেদের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় ব্রিটিশ সিটিজেন জান্নাতুল ফেরদৌসের। বিবাহের পর থেকে জাবেদকে লন্ডনে নেয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন জান্নাতুল। কিন্তু পরে জানতে পারেন জাবেদ একজন বখাটে, চরিত্রহীন ও মদ্যপ। আর পরকিয়া আসক্ত। তার পিছনে ব্রিটিশ নাগরিক ঐ বধূ অনেক টাকা পয়সা খরচ করে সংসার করার জন্য সু-পথে আনার চেষ্টা করেন। তা সম্ভব হয়নি।

কিন্তু জাবেদ লন্ডনী বধূর সকল আসা-ভরসা ও স্বপভঙ্গ করে প্রতারণা মূলকভাবে অন্যত্র বিবাহ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আর সুনামগঞ্জের ছাতক থানার জাউয়া এলাকায় মেয়ে ঠিক করে, আগামী ১৯ এপ্রিল কৈতক জাউয়া বাজারে অবস্থিত মা কমিউনিটি সেন্টার বিবাহ অনুষ্ঠানের জন্য বুকিং দেয়া হয়েছে। লন্ডনী বধূ এ বিষয়টি জানার পর গত ৯ এপ্রিল লন্ডনস্থ বাংলাদেশের হোম অফিস ও ঢাকাস্থ হাই কমিশনে দুইটি দরখাস্থ দাখিল করেন।

এতে তিনি উল্লেখ করেন, জাবেদ তার স্বামী। বিয়ের পর থেকে তিনি প্রায় তিনবার বাংলাদেশে এসেছেন। আর তাকে লন্ডনে নেয়ার জন্যও অনেক চেষ্টা করছেন। কিন্তু সে তার অবর্তমানে অন্যত্র আরো একটি বিবাহ করার জন্য পাত্রী ঠিক করেছে। ইতিমধ্যে তার বিয়ের দিন তারিখও ঠিক হয়েছে। তাই ঐ বিয়েটি বন্ধ করে দেয়ার আবেদন করেন।

এসএমপি কমিশনারের কাছে দেয়া আবেদনে লন্ডনী বধূর মামা আরো উল্লেখ করেন, জাবেদ একজন ধুরন্ধর ও প্রতারক প্রকৃতির লোক। তার সহজ সরল ভাগনীর লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে, তার অনুমতি না নিয়ে এবং তার অজান্তে অন্য একটি পাত্রীর সাথে বিবাহ ঠিক করেছে। তাই মানবিক কারণে জরুরী ভিত্তিতে অবৈধ বিবাহ বন্ধ করে জাবেদকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানানো হয়।

লন্ডনী বধূর মামা আবুল হাসনাত জানান, তার লন্ডন প্রবাসী ভাগনী জান্নাতুল ফেরদৌস। তার স্বামী জাবেদ। অথচ তাদের মধ্যে কোন ধরণের তলাকও হয়নি। আর তার ভাগনীর কাছ থেকে জাবেদ লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে তার লন্ডন প্রবাসী ভাগনীর অনুমতি না নিয়ে তার সাথে জাবেদ প্রতারণা করে সুনামগঞ্জের ছাতকে বিয়ে ঠিক করেছে। তাই এ বিয়ে বন্ধের জন্য তিনি পুলিশ কমিশনারের কাছে আবেদন করেছেন।

এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, লন্ডনী বধুর মামার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। আর এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।

সূত্র: দেশে বিদেশে