মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইনশাআল্লাহ একদিন অবশ্যই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পারব: নাসিম



নিউজ ডেস্ক:: সড়ক নিরাপদ রাখতে সরকারি বিধিবিধান সঠিকভাবে প্রয়োগের ওপর জোর দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, ‘সড়কে অনেক সমস্যা চিহ্নিত করে যদি বাস্তবায়ন করতে পারি, একদিন অবশ্যই ইনশা আল্লাহ বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে পারব, কোনো সন্দেহ নাই।’

আজ সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় ১৪ দল আয়োজিত ‘নিরাপদ সড়ক ও মাদকমুক্ত সমাজ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম এ কথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন তিনি।

সেখানে উপস্থিত বক্তারা সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তা দূর করার পরামর্শ দেন। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও সমাজকে মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন সময়ে যে সুপারিশ এসেছে সেগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। তারা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত ও সমাজ থেকে মাদকমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় যেসব সুপারিশ দেওয়া হয় তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় সমস্যাগুলো সমাধান হচ্ছে না। এই সমস্যা সমাধান করতে হলে যেসব সুপারিশ আসে সেগুলো বস্তবায়ন করতে হবে।

গোলটেবিল বৈঠকে শ্রমিকনেতা ও সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, বাংলাদেশের সড়ক নিরাপদ রাখতে তারা ১১টি সুপারিশমালা তৈরি করেছেন, যা খুব শিগগিরই সরকারের কাছে তুলে দেওয়া হবে। জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় চালকদের পেশাগত দক্ষতা তৈরিতে ভর্তুকি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান শাজাহান খান।

বার্তা সংস্থা বাসসের খবরে বলা হয়েছে, গোলটেবিল বৈঠকে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘আজকের সেমিনারে যে সুপারিশগুলো এসেছে সেগুলো আমরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে দেব। এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে অন্যান্য বিষয়ের মতো সড়ক ও মাদক সমস্যারও সমাধান হবে। জঙ্গিবাদ যদি আমরা মুক্ত করতে পারি, সড়ক সমস্যার সমাধান এবং মাদকও আমরা মুক্ত করতে পারব।’

নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার সব কিছুতে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো এখনো সমাধানের পথে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত ও মাদক এখনো সম্পূর্ণ মুক্ত হয়নি। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়ার আমলে সৃষ্ট অনেক সমস্যা আমরা এখনো সমাধান করতে পারিনি। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেসব সুপারিশ বিভিন্ন সময় এসেছে সেগুলো বাস্তবায়ন দেখতে চাই।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিভিন্ন সরকারের সময় বিআরটিসিকে দুনীতিবাজ সংগঠনে পরিণত করা হয়েছিল। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার সময় এই সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছিল। এখন আমরা সেগুলো ঠিক করতে পারিনি। তবে প্রত্যেকটি সেক্টরে আস্তে আস্তে উন্নতি হচ্ছে।

গোলটেবিল বৈঠকে উপস্থিত সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নাজমুল হুদা বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি সবাইকে নিয়ে পালন করার জন্য সব রাজবন্দিকে মুক্তির কথা বলেছেন। অবশ্যই আমরা সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তি উদযাপন করব। তবে দুর্নীতিবাজদের নিয়ে নয়। যারা কারাগারে আছেন তারা অপরাধী, অপরাধীদের নিয়ে এত বড় মহৎ কাজ আমরা করতে পারি না। আমরা সবাইকে জয়বাংলার পতাকা তলে আনতে চাই কিন্তু অপরাধীদেরকে নয়, অতীতের মতো অপরাধ যেন না হয়।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক এবং কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ করতে যে সব সুপারিশ দেওয়া হয় সেগুলো বাস্তবায়ন হয় না। সুপারিশ বাস্তাবয়নের এই অবহেলা দূর করতে হবে।

জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে। এটা করতে না পারলে সমস্যার সমাধান হবে না। অপরাধীরা অপরাধ করে বেরিয়ে যাচ্ছে, বিচার হচ্ছে না। এই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাংসদ মশিউর রহমান রাঙা, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংসদ মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাংবাদিকনেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল, আমাদের অর্থনীতির সম্পাদক নাইমুল ইসলাম খান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক সাংসদ শিরীন আখতার, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এ্যারোমা দত্ত, সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাংসদ রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি সাংসদ হাসানুল হক ইনু, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া প্রমুখ।