শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিশ্বনাথের কিশোর তাজ হত্যা মামলায় ১ জনের ফাঁসি



বিশ্বনাথ সংবাদদাতা:: সিলেটের বিশ্বনাথের বন্ধুয়া গ্রামের কিশোর তাজ উদ্দিন হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম নামের এক যুবককে মৃত্যুদন্ডের আদেশ প্রদান করা হয়েছে। সিলেটের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক কে.এম. রাশেদুজ্জামান রাজা মঙ্গলবার এ চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষনা করেন। এ সময় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী নুরুল ইসলাম পলাতক ছিলো।

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের বন্ধুয়া গ্রামে ২০১০ সালে ২ আগষ্ট রাত ৯টায় পঞ্চায়েত কমিটির সালিশ বৈঠক হয়। ৭ বছর বয়সের তাজ উদ্দিনের নকিয়া ১১১০ মডেলের একটি মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সালিশি বৈঠকে নুরুল ইসলামকে মোবাইল চুর হিসেবে সাব্যস্থ করা হয়। বৈঠকের পরবর্তী সময় নির্ধারণ করে স্থগিত করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৯ আগষ্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় নুরুল ইসলামের উপর থেকে বিচার তুলে নিতে আসামী গোদাবুল চাপ সৃষ্টি করেন। এসময় তাজ উদ্দিন বাড়ীর পশ্চিম পাশের উড়াল জাল দিয়ে মাছ ধরা অবস্থায় নুরুল ইসলাম পূর্ব বিরোধের জেরে কোমরে থাকা চাকু দিয়ে উপর যুপরি তাজ উদ্দিনকে ঘাই দিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করেন।

পরে জখম অবস্থায় তাকে সিএনজি দিয়ে সিলেট এম.এ.জি ওমসানী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ঐ দিন বেলা ২টা ৫০ মিনিটে মারা যান তাজ উদ্দিন। এ ঘটনায় তাজ উদ্দিনের মা তৈয়রুন নেছা (৪০) বাদী হয়ে বিশ্বনাথ থানায় বন্ধুয়া গ্রামের আলতাব আলী পুত্র নুরুল ইসলাম (২২), নজরুল ইসলাম (১৮), ফজর আলী (৩৫), মৃত সিকন্দার আলীর পুত্র মোঃ গেদাবুল মিয়া (৪৫), মিরের গাঁও গ্রামের মন্তাজ আলীর পুত্র বরই মিয়াকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। যার নং-০৫ তারিখ ০৯/০৮/২০১০ ধারাঃ ১৪৩/৪৪৭/৩০২/৫০৬/১১৪/৩৪ দঃবিধি।

এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই মাসুদুর রহমান নুরুল ইসলামকে এক মাত্র আসামী করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন। যার নং-৮২ তারিখ ২১/০৫/২০১৩। বাকী চার আসামীর বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদেরকে চার্জশীটে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে ২০১১ সালের ৩০ এপ্রিল এস.আই মমিনুল একই ৪ জনকে বাদ দিয়ে অভিযোগপত্র প্রদান করেন। যার নং-৭৪ সর্বশেষ ২০১৫ সালের ২৫ আগষ্ট একইভাবে ৪ জনকে বাদ দিয়ে একমাত্র নুরুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পুরক চার্জশীট দাখিল করা হয়। যার নং-১১১। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২১ এপ্রিল সিলেটের জেরা ও দায়রা জজ আদালতে ৩০২ ধারায় নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চার্জ গঠন করা হয়। বিচারান্তে ৪৬ জন আসামীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। আদালত আসামী নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমানিত হওয়ায় তাকে মৃত্যুদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। মামলা পরিকল্পনা করেন রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি এডভোকেট শামসুল ইসলাম ও স্টেইট ডিফেন্স ফারজানা হাবিব চৌধুরী।

The post বিশ্বনাথের কিশোর তাজ হত্যা মামলায় ১ জনের ফাঁসি appeared first on DAILYSYLHET.COM | SYLHET NEWS | BANGLA NEWS.